সার্বিয়ার ভিসার নামে প্রতারণার অভিযোগ: ১৫ জনের কাছ থেকে ৩২ লাখ, চার ভিসাই জাল!

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
সার্বিয়ার ভিসার নামে প্রতারণার অভিযোগ: ১৫ জনের কাছ থেকে ৩২ লাখ, চার ভিসাই জাল!

সূত্রঃ সংগৃহীত

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি


বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১৫ জনের কাছ থেকে প্রায় ৩২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার মো. সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার এক বছর পার হলেও অধিকাংশকে সার্বিয়ায় পাঠানো হয়নি। চারজনকে ভিসা দেওয়া হলেও সরকারি যাচাইয়ে সেগুলো জাল বলে জানানো হয়েছে।


ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, সার্বিয়ায় ভালো বেতনে চাকরির আশ্বাস দিয়ে জনপ্রতি ২ লাখ ৮০ হাজার থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার পর দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও বিদেশে যাওয়ার সুযোগ না পেয়ে তারা টাকা ফেরতের দাবি জানান।


এ সময় সিদ্দিকুর রহমান এক সপ্তাহের মধ্যে ভিসা দেওয়ার অথবা ব্যর্থ হলে টাকা ফেরত দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার করেন বলে অভিযোগ। এ সংক্রান্ত ১০০ টাকার তিনটি স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। স্ট্যাম্প নম্বর গগ ৬৯৯০৮৬২, গগ ৬৯৯০৮৬৩ ও গগ ৬৯৯০৮৬৪।


টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা হিসেবে অগ্রণী ব্যাংকের বনানী কর্পোরেট শাখার তারিখবিহীন চেকও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। চেকের হিসাব নম্বর 0200000634953 এবং চেক নম্বর CDA 4134132 ও CDA 4134154।


ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চারজনের ভিসার নম্বর হলো—আইউব আলী শেখ (A0894749), ফারুক হোসেন (A0894762), সোহাগ সরদার (A0894762) ও ইউনুচ শেখ (A0894764)। তাদের দাবি, সরকারি যাচাইয়ে এসব ভিসা জাল হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।


টাকা জোগাড় করতে কেউ জমি বিক্রি, কেউ মাছের ঘের বন্ধক এবং কেউ ঋণ করেছেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা। বিদেশে যেতে না পারায় এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।


তাদের আরও অভিযোগ, টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে জীবননাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।


ভুক্তভোগীদের কাছে থাকা স্ট্যাম্প, চেক, ভিডিও ফুটেজ, ভিসা এবং সরকারি যাচাইসংক্রান্ত নথিপত্রের ভিত্তিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা দাবি করেছেন তারা।


অভিযোগের বিষয়ে মো. সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। মো. দবির তালুকদারের বক্তব্য নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়, তবে তাকে পাওয়া যায়নি।