সাংবাদিকদের নিয়ে ইউএনওর মন্তব্য, ভাইরাল অডিও ঘিরে বিতর্ক
সূত্রঃ সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘সাতকানিয়ায় ছাগলের মতো সাংবাদিকদের সংখ্যা বাড়ছে।’ এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) অডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এটি কখনকার এবং কোন প্রেক্ষাপটে রেকর্ড করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভাইরাল অডিও নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশ আপত্তি জানিয়ে বলছেন, সাংবাদিকতার মান, পরিচয়পত্রের অপব্যবহার কিংবা সাংবাদিক পরিচয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা যেতে পারে। তবে একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীকে প্রাণীর সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য, সাতকানিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনের কার্যক্রম, অনিয়ম-দুর্নীতি, জনদুর্ভোগ, অপরাধ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের খবর মানুষের সামনে তুলে ধরতেও তারা ভূমিকা রাখছেন। ফলে কোনো সাংবাদিকের কর্মকাণ্ড নিয়ে আপত্তি থাকলে নির্দিষ্টভাবে তা তুলে ধরাই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেন তারা।
অন্যদিকে, সাতকানিয়া সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রুকন উদদীন রুবেল দাবি করেন, ইউএনওর বক্তব্যটি মূলত সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে এসেছে। তার ভাষ্য, উপজেলায় এমন অনেক ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে কাজ করছেন, যাদের প্রকৃত পেশাগত যোগ্যতা ও সাংবাদিকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
রুকন উদদীন রুবেল বলেন, বিভিন্ন পেশা থেকে আসা ব্যক্তি, ভিডিও নির্মাতা ও টিকটকারসহ অনেকে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করছেন। তাদের কেউ কেউ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, বিভিন্ন দপ্তরে দালালি কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তার দাবি, এসব ব্যক্তিকে নিয়েই মূলত ইউএনও মন্তব্যটি করেছেন। তিনি বলেন, ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিকবান্ধব কর্মকর্তা এবং তার বক্তব্যকে পুরো সাংবাদিক সমাজের বিরুদ্ধে মন্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এদিকে অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ ইউএনওর বক্তব্যের সমালোচনা করছেন, আবার কেউ সাতকানিয়ায় সাংবাদিকতার নামে অনিয়ম ও অপেশাদার কর্মকাণ্ডের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
তবে ভাইরাল অডিওটির সত্যতা, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং এটি কখন রেকর্ড করা হয়েছে—এসব বিষয়ে ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এমকে/বিএম২৪









