সপ্তাহ পর ভেসে উঠল রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়, উচ্চতা বাড়ানোর দাবি
সূত্রঃ সংগৃহীত
চাই সুই উ মারমা, রাঙ্গামাটি
টানা ছয় দিন পানির নিচে থাকার পর কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে ভেসে উঠেছে রাঙামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতু। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সেতুটির অধিকাংশ অংশ পানির ওপর দৃশ্যমান হওয়ার পর পর্যটকদের প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয়। এতে বিকেল থেকেই সেতু এলাকায় পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
এর আগে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ আগস্ট ঝুলন্ত সেতুটি পানিতে তলিয়ে যায়। নিরাপত্তার কারণে ওই দিন দুপুর থেকে সেতুতে পর্যটকদের প্রবেশ ও চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
পানি কমে যাওয়ার পর শুক্রবার সেতুটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও প্রয়োজনীয় মেরামত করা হয়। পরে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পর্যটকদের সেতুতে চলাচলের সুযোগ দেয়া হয়। তবে এ দিন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিট বিক্রি শুরু হয়নি। কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়া গেলে শনিবার থেকে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে সেতুটি বাণিজ্যিকভাবে পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঝুলন্ত সেতুর টিকিট কাউন্টার ম্যানেজার হাসান আহমেদ সোহেল বলেন, ‘ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি নামার কারণে সেতুটি তলিয়ে গিয়েছিল। এখন পানি নেমে গেছে। আমরা সেতুটি ধুয়ে-মুছে প্রয়োজনীয় মেরামত করেছি। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। অনুমতি পেলে শনিবার থেকে খুলে দেয়া হবে। গতকাল শুক্রবার প্রচুর দর্শনার্থী এসেছে।’
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পর্যটকরা জানান, রাঙামাটির প্রধান আকর্ষন ঝুলন্ত সেতু। ঝুলন্ত সেতুটি দেখার আগ্রহ থেকেই তার এখানে আসে অনেকে। সেতুটির উচ্চতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেক পর্যটক। সেতুটি পানির নিচে দেখতে পেয়ে হতাশ হয়েছেন অনেকে। একই সাথে সেতুটিকে তার প্রকৃত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আরো আকর্ষণীয় করারও দাবিও জানান অনেকে।
রাঙামাটির পর্যটন খাতের অন্যতম প্রতীক এই ঝুলন্ত সেতু। পাহাড়, হ্রদ ও সবুজ প্রকৃতির পাশাপাশি সেতুটি দেখতে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক রাঙামাটিতে আসেন। ফলে সেতুটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলে শুধু দর্শনার্থীদের ভোগান্তিই নয়, স্থানীয় পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়ে।
সেতু বন্ধ থাকার সময়ে পর্যটকদের একটি অংশ বিকল্প বিনোদনকেন্দ্র বেছে নেন কিংবা ভ্রমণসূচি পরিবর্তন করেন। এতে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পর্যটন পরিবহন, নৌযান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে এমন পরিস্থিতি স্থানীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
প্রতি বছর কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লে ঝুলন্ত সেতু তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে পর্যটন মৌসুমে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সেতুটির উচ্চতা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান করা গেলে রাঙামাটির পর্যটন খাত আরো গতিশীল হতে পারে।
পর্যটকদের দাবি, কাপ্তাই হ্রদের পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা বিবেচনায় নিয়ে ঝুলন্ত সেতুটির উচ্চতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। একই সাথে সেতুটির সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিকায়ন করা গেলে এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্থাপনা হিসেবে আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেতুটিকে সারা বছর ব্যবহারের উপযোগী করা গেলে রাঙামাটির পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। এতে পর্যটক সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে।
এমকে/বিএম২৪









