রংপুরেই যেন ‘মালদ্বীপ’, তিস্তার বুকে জেগে ওঠা সাদা বালুচরে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য
সূত্রঃ সংগৃহীত
রংপুর প্রতিনিধি
নীল জলরাশি, চারদিকে সবুজ আর মাঝখানে সাদা বালুর ছোট ছোট চর—দূর থেকে দেখলে যেন মালদ্বীপের কোনো দ্বীপপুঞ্জ। তবে বিদেশ নয়, এমনই মনোরম দৃশ্যের দেখা মিলছে রংপুর অঞ্চলের তিস্তা নদীর বুকজুড়ে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ বালুচর ও চরাঞ্চলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড্রোন বা আকাশ থেকে তোলা এসব ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই জায়গাগুলোকে ‘রংপুরের মালদ্বীপ’ বলে অভিহিত করছেন। বিশেষ করে নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা সাদা বালুর চর, চারপাশের পানি আর নীরব প্রাকৃতিক পরিবেশ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে।
তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের সৌন্দর্য অবশ্য ঋতুভেদে বদলে যায়। বর্ষায় নদী পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠলে চারপাশে দেখা যায় বিস্তীর্ণ জলরাশি। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে গেলে নদীর বুকে জেগে ওঠে বিশাল বালুচর। তখন সাদা বালুর ওপর সূর্যের আলো পড়ে তৈরি করে ভিন্ন এক নৈসর্গিক দৃশ্য।
প্রকৃতি ও পানির মেলবন্ধন
তিস্তার চরাঞ্চলের পাশাপাশি রংপুরে পানি ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের জন্য রয়েছে বেশ কিছু বিনোদনকেন্দ্র। এর মধ্যে শহরের চিকলী বিলকে ঘিরে গড়ে ওঠা চিকলী ওয়াটার পার্ক অন্যতম। জলাশয়কেন্দ্রিক পরিবেশ, বিভিন্ন রাইড ও নৌভ্রমণের সুযোগ দর্শনার্থীদের বাড়তি আনন্দ দেয়।
শহরের বাইরে খলেয়া এলাকায় রয়েছে ভিন্নজগত। সবুজ গাছপালা ও লেকঘেরা এ বিনোদনকেন্দ্রেও প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে।
তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে তিস্তা নদীর চরাঞ্চল আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে। কোনো কৃত্রিম সাজসজ্জা ছাড়াই নদীর পানি, বালুচর, আকাশ আর সবুজের সমন্বয়ে এখানে তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
পর্যটনের সম্ভাবনা
স্থানীয়দের মতে, তিস্তার চরাঞ্চলের সৌন্দর্যকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনের আওতায় আনা গেলে রংপুর অঞ্চলে নতুন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে শীত ও শুষ্ক মৌসুমে জেগে ওঠা বালুচরগুলোতে নিরাপদ পর্যটন, নৌভ্রমণ ও ক্যাম্পিংয়ের ব্যবস্থা করা গেলে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ আরও বাড়তে পারে।
প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য দেখতে ইতোমধ্যে স্থানীয় অনেক মানুষ তিস্তার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ছুটে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর কারণে এসব স্থানের প্রতি মানুষের আগ্রহও দিন দিন বাড়ছে।








