বাকৃবিতে ২৫ দিনব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপ্তি
ছবি: বিডি মেইল
বাকৃবি প্রতিনিধি
দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আয়োজিত ৩০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে দেশের ২৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (জিটিআই) শ্রেণিকক্ষে সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে এবং জিটিআইয়ের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ গত ২০ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে জিটিআইয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. বেনতুল মাওয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান এবং রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মদক্ষতার মূল্যায়নের ভিত্তিতে দলগত ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে পুরস্কার দেওয়া হয়। দলগত পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের পাঁচজন করে সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন একজন, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন দুজন এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন দুজন। এ ছাড়া প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রত্যেককে সনদ ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, দেশে অনুমোদিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৯টি হলেও আপাতত সব বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে জিটিআই থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করছেন। এখানে যা শিখতে পেরেছেন, কর্মক্ষেত্রে তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব বলেন, জিটিআই ১৯৮১ সালে অসাধারণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বর্ণপদক অর্জন করে। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ২০০৭ সালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ চালুর সময় তৎকালীন ইউজিসি চেয়ারম্যান জিটিআইয়ের কাজের প্রশংসা করেছিলেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে অর্থায়ন চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষায় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষার বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।









