পঞ্চগড়ে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ তাঁতী দল নেতার বিরুদ্ধে, জব্দ ৩০ হাজার টাকার গাছ

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৩ এএম
পঞ্চগড়ে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ তাঁতী দল নেতার বিরুদ্ধে, জব্দ ৩০ হাজার টাকার গাছ

ফাইল ছবি

সাইয়্যেদ মুহাম্মদ শান্ত, পঞ্চগড় প্রতিনিধি


পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় রাতের আঁধারে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ও বন বিভাগের সদস্যরা ২১ টুকরো ইউক্যালিপটাস গাছ জব্দ করেছেন, যার আনুমানিক মূল্য ৩০ হাজার টাকার বেশি। তবে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নেতা।


ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নের বিষ্ণু নারায়ণী মৌজার কাটাবাড়ি এলাকায়। অভিযুক্ত জাহিরুল ইসলাম পঞ্চগড় সদর উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি।


বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিষ্ণু নারায়ণী মৌজায় ২০০৪ সালে রোপণ করা ইউক্যালিপটাসের বাগান রয়েছে। গত রোববার (১৯ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে কাটাবাড়ি এলাকায় সরকারি গাছ কাটার খবর পান বন বিভাগের কর্মকর্তারা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় কাটা গাছের ২১টি টুকরো জব্দ করা হয়।


পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিট কর্মকর্তা জয়নুল আবেদিন জানান, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছগুলো জব্দ করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, জাহিরুল প্রধান, হালিম ও আনিস নামে কয়েকজন গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্তে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


স্থানীয় সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. সোহেল অভিযোগ করেন, এলাকায় রাতের আঁধারে সরকারি গাছ কাটার ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তাঁতী দল নেতা জাহিরুলের বাড়ির সামনেও কাটা গাছ রয়েছে এবং এ বিষয়ে তিনি অবগত।


ঘটনাস্থলে ক্ষোভ প্রকাশ করে পঞ্চগড় পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, কার প্রভাবে সরকারি গাছ কাটা হয়েছে, তা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।


অন্যদিকে, কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য গমিরউদ্দিন প্রধান জানান, জাহিরুল প্রধানসহ গ্রামবাসীর সঙ্গে পরামর্শ করেই গাছগুলো কাটা হয়েছিল। পরে জালাসিসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে এসে গাছ জব্দের সময় হট্টগোল সৃষ্টি করেন বলে দাবি করেন তিনি।


অভিযোগ অস্বীকার করে তাঁতী দল নেতা জাহিরুল ইসলাম জানান, গাছ কাটার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।


পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, স্থানীয়রা ফোন করে সরকারি গাছ কেটে ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়ার খবর দেন। পরে পুলিশ সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে পঞ্চগড় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা কাটা গাছগুলো জব্দ করেন।


এমকে/বিএম২৪