পাহাড়ের তিন কমিটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর বিবৃতির প্রতিবাদে সচেতন নাগরিক সমাজ
সূত্রঃ সংগৃহীত
মো. ওমর ফারুক হৃদয়, বান্দরবান প্রতিনিধি
পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গঠিত তিনটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর ও অসত্য’ বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিক সমাজ। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, নির্বাহী কমিটি ও পরামর্শক কমিটি গঠন নিয়ে ৫১/৫২ জন বুদ্ধিজীবী ও নাগরিকের একাংশের দেওয়া বিবৃতির জবাবে ১০২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি যৌথভাবে এ প্রতিক্রিয়া জানান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সচেতন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা নিরসন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব জনগোষ্ঠীর সুষম উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকার গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করতেই তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির সুফল পাহাড়ি-বাঙালি সব নাগরিক যেন সমানভাবে ভোগ করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনিক দক্ষতা ও বাস্তবমুখী তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, গুম-খুন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ প্রশাসনিক উদ্যোগকে ‘সামরিকায়ন’ বা ‘আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্ব’ হিসেবে আখ্যায়িত করা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পার্বত্য অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রতিনিধিত্ব সংকুচিত করার উদ্দেশ্য সরকারের নেই বলেও দাবি করা হয়।
সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পাহাড়ের অস্থিতিশীলতা রোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। তাদের দাবি, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পার্বত্য অঞ্চলের তিনটি আসনে পাওয়া জনরায়ের ভিত্তিতে সরকার জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী গঠিত পরামর্শক ও নির্বাহী কমিটি আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে স্থানীয় উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি, নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার বিষয়ে সুপারিশ দেবে।
এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলোর অবৈধ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়। এতে পাহাড়ি বা বাঙালি কোনো জনগোষ্ঠীর নাগরিক সুবিধা হরণের উদ্দেশ্য নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্বাধীনতার পর থেকে পার্বত্য সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার সব নাগরিকের মৌলিক সমস্যা সমাধানে একটি গতিশীল ও বাস্তবায়নযোগ্য রূপরেখা তৈরি করতে চায়। পাহাড়ের নিরাপত্তাকে শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে না দেখে সেখানে বসবাসরত প্রতিটি মানুষের নিরাপদ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।
পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পাহাড়ে পুনরায় অস্থিতিশীলতা তৈরি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ে বসবাসকারী শান্তিকামী পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠী, রাজনৈতিক ব্যক্তি, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের মূল সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আসিফ মিজান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. গোলাম রহমান ভূঁইয়া, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান, লে. কর্নেল (অব.) খন্দকার ফরিদুল আকবর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবু তৈয়ব চৌধুরীসহ সমাজসেবী, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, উন্নয়নকর্মী ও পার্বত্য অঞ্চলের শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি স্বাক্ষর করেন।
এমকে/বিএম২৪








