১৮ মাস পর কিশোরী নিঝুম হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
১৮ মাস পর কিশোরী নিঝুম হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

সূত্রঃ সংগৃহীত

মো. আসাদুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি


ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে নিখোঁজের প্রায় ১৮ মাস পর কিশোরী মোছা. নিঝুম খাতুন (১৭) অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় মাশরিকুল রহমান জিম (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জিম কিশোরী নিঝুমকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।


পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা নিঝুম খাতুন নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার মা তাসলিমা খাতুন ৮ এপ্রিল মহেশপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তী সময়ে নিঝুমের সন্ধান না পাওয়ায় তার মা বাদী হয়ে অপহরণ মামলা করেন।


দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নিঝুমের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধার এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল তদন্ত শুরু করে।


তদন্তের একপর্যায়ে মহেশপুর থানার কামাল হোসেনের ছেলে মাশরিকুল রহমান জিমকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জিম নিঝুমকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিমের সঙ্গে নিঝুমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে তিনি নিঝুমকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী রেলস্টেশনে নিয়ে যান। সেখানে নির্জন এলাকায় বসে থাকার সময় বিয়ের বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জিম নিঝুমকে থাপ্পড় মারলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান জিম।


এরপর জিম নিঝুমকে টেনে রেললাইনের পাশের একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে নিঝুমের পরনের ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের কাছে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন জিম। পরে মরদেহটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে ট্রেনে করে পালিয়ে যান বলেও জানান তিনি।


জিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের একটি দল তাকে সঙ্গে নিয়ে ঈশ্বরদীর পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় যায় এবং ঘটনাস্থল শনাক্ত করে।


তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ পাকশী রেলস্টেশন এলাকার একটি স্থান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছিল ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে পাবনা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় মরদেহটি দাফন করা হয়।


পরে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটে সংরক্ষিত অজ্ঞাত মরদেহের ছবি সংগ্রহ করে। ছবিতে থাকা পোশাক দেখে জিম ওই মরদেহটি নিঝুমের বলে শনাক্ত করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।


পুলিশ আরও জানায়, ২২ সেপ্টেম্বর জিম আদালতে নিঝুম হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।


এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মামলাটিও বর্তমানে তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।


এমকে/বিএম২৪