পাঁচ উদ্ভাবন নিয়ে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে যৌথ চ্যাম্পিয়ন যবিপ্রবি

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০২ এএম
পাঁচ উদ্ভাবন নিয়ে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে যৌথ চ্যাম্পিয়ন যবিপ্রবি

সূত্রঃ সংগৃহীত

যবিপ্রবি প্রতিনিধি: সাকিবুল ইসলাম


বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ ৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে উপস্থাপিত পাঁচটি উদ্ভাবনের ভিত্তিতে এ সাফল্য অর্জিত হয়। এবারের মেলায় মোট পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়কে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে।


চ্যাম্পিয়ন হওয়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (BUBT), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (AIUB)।


রাজধানীর নোভো থিয়েটারে ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। ‘Innovation Ecosystem Toward Trillion Dollar Economy’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ মেলায় গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিকে শিল্প, বিনিয়োগ এবং বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


মেলায় যবিপ্রবির পক্ষ থেকে প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক পাঁচটি উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হয়। এগুলো হলো—ন্যানো-ইউরিয়া, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় স্মার্ট সেন্সর, ন্যানো-ক্যারিয়ার ড্রাগ, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য প্রিবায়োটিক এবং সরাসরি পানি থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদন প্রযুক্তি। কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এসব উদ্ভাবনের সম্ভাব্য প্রয়োগ তুলে ধরা হয়।


যবিপ্রবির এ সাফল্যের বিষয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাভেদ হোসেন খান বলেন, “বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ যবিপ্রবির পক্ষ থেকে মোট পাঁচটি উদ্ভাবন উপস্থাপন করা হয়। এসব উদ্ভাবনের ওপর ভিত্তি করে ৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যবিপ্রবি চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এই অর্জন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। একই সঙ্গে এটি আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের উদ্ভাবনী সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।”


মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।


এবারের ইনোভেশন ফেয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল ‘Innovate to Market’। এর মাধ্যমে গবেষণাগার বা প্রোটোটাইপ পর্যায়ে থাকা উদ্ভাবনকে বাস্তব শিল্পপ্রয়োগ ও বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি উদ্ভাবক, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তি সরবরাহকারী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়।


মেলায় এক হাজারের বেশি উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি ১৫টির বেশি সেশন ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। গবেষণা ও উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ প্রযুক্তি, স্মার্ট কৃষি, টেক্সটাইল ও পোশাক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, মেধাস্বত্ব এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত এ মেলায় কারিগরি সহযোগী হিসেবে ছিল জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)।


যবিপ্রবির এ অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিয়ে উপস্থাপিত উদ্ভাবনগুলো দেশের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে গবেষণাকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টির আগ্রহ ও সক্ষমতার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।


এমকে/বিএম২৪