পর্নসাইটে ভিডিও বিক্রি; চট্টগ্রামে আসিফের ব্ল্যাকমেইলে নিঃস্ব তরুণী!

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
পর্নসাইটে ভিডিও বিক্রি; চট্টগ্রামে আসিফের ব্ল্যাকমেইলে নিঃস্ব তরুণী!

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম 


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, বিয়ের প্রলোভন, শারীরিক সম্পর্ক এবং শেষ পর্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তান। তবে গল্পের নির্মমতা এখানেই শেষ হয়নি। ডিএনএ টেস্টে পিতৃত্ব প্রমাণের পর সমঝোতার আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ, হবু বরের কাছে অন্তরঙ্গ ভিডিও পাঠিয়ে বিয়ে ভাঙা, অতঃপর অজান্তে ধারণ করা সেই ভিডিও বিদেশি পর্নোগ্রাফি সাইটে বিক্রি এমনই এক ভয়ংকর ও নির্মম ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছেন চট্টগ্রামের এক তরুণী।


অভিযুক্ত যুবকের নাম কাওছার আজীম আসিফ। তিনি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ মৌলবি পাড়া এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।


অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালে ফেসবুকে নাহিদা হক মুনা (ছদ্মনাম) নামের ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন আসিফ। বিয়ের সুদৃঢ় আশ্বাসে তরুণীর সঙ্গে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করেন তিনি। একপর্যায়ে তরুণী গর্ভবতী হয়ে পড়লে আসিফ তাকে গর্ভপাতের জন্য মারাত্মক চাপ দিতে থাকেন। তবে সব সামাজিক বাধা ও মানসিক চাপ উপেক্ষা করে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন ভুক্তভোগী।

সন্তান জন্মের পর আসিফ পিতৃপরিচয় দিতে অস্বীকার করলে তরুণী আদালতের শরণাপন্ন হন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে সিআইডি এবং পুলিশের মাধ্যমে ডিএনএ পরীক্ষা করানো হলে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে আসিফের নাম নিশ্চিত হয়।


ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার পর এক সমঝোতা বৈঠকে আদালতের মাধ্যমেই তরুণী ও সন্তানকে ঘরে তোলার লিখিত ওয়াদা দেয় আসিফ। তবে তা ছিল কেবল সময়ক্ষেপণের বাহানা। আসিফ একের পর এক নারীর সঙ্গে গোপন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে থাকেন।

দীর্ঘদিন প্রতারিত হওয়ার পর তরুণী জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর সিদ্ধান্ত নেন এবং অন্য এক পাত্রের সঙ্গে তার বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়। তবে এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় আসিফ। প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে হবু শ্বশুরবাড়িতে আগের সন্তান থাকার বিষয়টি ফাঁস করে দেয় সে। শুধু তাই নয়, গোপনে ধারণ করা কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও পাঠিয়ে বিয়ের ঠিক ৯ দিন আগে সেই আয়োজন ভেঙে দেয়।


পর্নোগ্রাফি সাইটে ভিডিও বিক্রি!


বিয়ের আয়োজন পণ্ড হওয়ার পর তরুণীকে আবারও মিথ্যে ভালোবাসার জালে ফেলে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে নিয়ে যান আসিফ। তরুণীর অজান্তেই সেখানে ধারণ করা হয় প্রায় শতাধিক আপত্তিকর ভিডিও। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরবর্তীতে সেসব ভিডিও বিভিন্ন বিদেশি পর্নোগ্রাফি ও নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটে বিক্রি করা শুরু করে আসিফ।


সন্তান ও প্রথম সম্পর্কের তথ্য লুকিয়ে নতুন বিয়ে!


ঘটনার চূড়ান্ত মোড় নেয় গত আগস্টে। ১৬ আগস্ট ভুক্তভোগীর বাসায় রাত কাটানোর পরদিন, অর্থাৎ ১৭ আগস্ট নগরীর বহদ্দারহাট ফরিদার পাড়া এলাকায় নিজের ৬ বছরের কন্যাসন্তান ও সব তথ্য গোপন করে সম্পূর্ণ নতুন এক তরুণীকে বিয়ে করেন আসিফ।

খবর পেয়ে ভুক্তভোগী তরুণী আসিফের বাড়িতে ছুটে গেলে তাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাকী ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় সে।


আসামি পলাতক বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী তরুণী স্থানীয় থানা ও আদালতে মামলা করেন। বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনে আসিফের বিরুদ্ধে তিনটি ভিন্ন মামলা সিএমপির বন্দর থানা, পিবিআই এবং সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছে।


বন্দর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই স্বর্ণালী মজুমদার জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আসিফ আত্মগোপনে রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে।