নির্মাণকাজে বাধা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:১২ পিএম
নির্মাণকাজে বাধা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

সূত্রঃ সংগৃহীত

ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী ব্যুরো


রাজশাহী মহানগরীর রামচন্দ্রপুর এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের কাজ বন্ধ করতে বাধা, পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. বুলবুল নামের এক ব্যক্তি। একই সঙ্গে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে বুলবুল বলেন, তিনি বোয়ালিয়া থানার অন্তর্গত রামচন্দ্রপুর এলাকার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁর মা মনোয়ারা বেগম পৈত্রিক ও বৈধ সূত্রে পাওয়া জমি দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তাঁর ভাই ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমিতে তাঁরা একটি দুইতলা ভবন নির্মাণ করছেন। ভবনটির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


বুলবুলের অভিযোগ, ভবন নির্মাণ শুরুর সময় কোনো আপত্তি না থাকলেও দ্বিতীয় তলার কাজ শুরু হলে তাঁর খালাতো ভাই-বোন আনিসুর, রেজা, অনিক, সাব্বির, বিউটি, রহিমা ও রুমাসহ কয়েকজন জমির ওপর দাবি তুলে নির্মাণকাজে বাধা দিতে শুরু করেন। এ সময় বহিরাগত লোকজন নিয়ে একাধিকবার হামলা ও মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


লিখিত বক্তব্যে বুলবুল আরও দাবি করেন, নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য আনিসুরসহ অভিযুক্তরা তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ ঘটনায় তাঁর মা মনোয়ারা বেগম ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর বোয়ালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৬০১) করেন। এরপর তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ করেন বুলবুল। হামলার চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র তাঁর কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।


পরবর্তীতে তাঁর স্ত্রী তসলিমা ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি বোয়ালিয়া মডেল থানায় জিডি (নং-১৮৫১) এবং বুলবুল নিজে ১৭ ফেব্রুয়ারি জিডি (নং-১০৯৭) করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান।


বুলবুলের দাবি, প্রতিপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলেও সেটি খারিজ হয়ে যায় এবং রায় তাঁদের পক্ষে আসে। পাশাপাশি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) কাছে করা অভিযোগের শুনানিও তাঁদের অনুকূলে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


তবে একাধিক জিডি ও আদালতের সিদ্ধান্তের পরও স্থানীয় থানা পুলিশের কাছ থেকে কার্যকর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন বুলবুল। তাঁর দাবি, এতে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বর্তমানে তাঁকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


বুলবুল বলেন, “আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমরা এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ চাই।”


সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নির্মাণকাজে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আনিসুরের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি গাড়ি চালানোর কথা জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।


বোয়ালিয়া থানার কাছ থেকে কার্যকর তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুমা মুস্তারী আরএমপি পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।