নরসিংদী থেকে উদ্ধার সাংবাদিকের নিখোঁজ ছেলে প্রিতম, স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
নরসিংদী থেকে উদ্ধার সাংবাদিকের নিখোঁজ ছেলে প্রিতম, স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে

সংগৃহীত

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি


বাগেরহাটের চিতলমারীতে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া সাংবাদিক প্রিন্স মন্ডল অলিফের একমাত্র ছেলে প্রিতম মন্ডলকে (১৬) নরসিংদী থেকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব-১১ ও চিতলমারী থানা পুলিশ। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার কাঠালিয়া এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে নরসিংদী র‍্যাব-১১ কার্যালয় থেকে পুলিশের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় প্রিতমকে।


দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর একমাত্র ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে। এ ঘটনায় উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও সংবাদ প্রচারে সহযোগিতাকারী গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে পরিবার।


প্রিতম চিতলমারী সরকারি এস এম মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা প্রিন্স মন্ডল অলিফ দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার, দৈনিক বাংলাদেশ ডায়েরি, কাল প্রকাশ অনলাইন ও বিডি মেইল ২৪ অনলাইনের বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় প্রিতম। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছে খোঁজখবর নেওয়া হয়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে চিতলমারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৮৩২) করেন তার বাবা।


সন্তানের কোনো সন্ধান না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিল পরিবার। প্রিতমকে খুঁজে পেতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন স্বজনেরা। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিখোঁজের খবর প্রচারিত হলে তাকে উদ্ধারে তৎপরতা জোরদার করা হয়।


যৌথ অভিযানে উদ্ধার


পরিবারের ধারণা, প্রিতমকে প্রলুব্ধ করে বা ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাকে উদ্ধারে র‍্যাব-১১ ও চিতলমারী থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করে। অবশেষে ১৮ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার কাঠালিয়া এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।


পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জে এম মাসুমের তত্ত্বাবধান এবং উপপরিদর্শক (এসআই) শাকিলের নির্দেশনা ও তৎপরতা উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফায়জুল ও এএসআই আজাদও অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।


উদ্ধারের পর প্রিতমকে প্রথমে নরসিংদী র‍্যাব-১১ কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশের মাধ্যমে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রিতমকে কীভাবে নরসিংদীতে নেওয়া হয়েছিল এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে উদ্‌ঘাটনের বিষয়।


প্রশাসনের সমন্বয় ও সহযোগিতা


প্রিতমকে উদ্ধারে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার এবং জেলা প্রশাসক সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছে পরিবার। উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে তাঁরা চিতলমারী থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেন।


পরিবারের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আন্তরিকতা, মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের তৎপরতা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় উদ্ধার অভিযান সফল হয়েছে।


গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা


প্রিতমকে খুঁজে পেতে জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে পরিবার। সাংবাদিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিখোঁজের খবর প্রচার করায় অল্প সময়ের মধ্যে বিষয়টি ব্যাপকভাবে মানুষের নজরে আসে। এতে প্রিতমকে খুঁজে পেতে সম্মিলিত উদ্যোগ আরও জোরদার হয়।


সন্তানকে ফিরে পেয়ে প্রিন্স মন্ডল অলিফ ও তাঁর পরিবার র‍্যাব-১১, চিতলমারী থানা পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্য, বাগেরহাট জেলা পুলিশ, পিবিআই, জেলা প্রশাসন এবং সংবাদ প্রচারে সহযোগিতাকারী জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।


পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুঃসময়ে যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন, সংবাদ প্রচার করেছেন এবং সন্তানকে ফিরে পেতে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের অবদান কখনো ভুলে যাওয়ার নয়। সবার আন্তরিকতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একমাত্র সন্তানকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়ায় তাঁরা সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।


প্রিতমকে উদ্ধারের মধ্য দিয়ে পরিবারের দীর্ঘ উৎকণ্ঠার অবসান হয়েছে। তবে তাকে ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের পেছনে প্রকৃত ঘটনা কী এবং কারা জড়িত, তা উদ্‌ঘাটনে তদন্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।


এমকে/বিএম২৪