দীর্ঘদিন পর চালু হচ্ছে রাজশাহী মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিং পুল

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
দীর্ঘদিন পর চালু হচ্ছে রাজশাহী মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিং পুল

সূত্রঃ সংগৃহীত

ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী ব্যুরো প্রতিনিধি


দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকার পর নতুন ব্যবস্থাপনায় আবারও চালু হচ্ছে রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিং পুল। আগামী শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে পুলটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সাঁতারপ্রেমী, খেলোয়াড়, তরুণ-তরুণী ও সাধারণ মানুষের জন্য সাঁতার শেখা ও অনুশীলনের সুযোগ তৈরি হবে।


নগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অভ্যন্তরে অবস্থিত সুইমিং পুলটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সাঁতারচর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন নগরীর ক্রীড়াপ্রেমীরা। এবার ক্রিস্টেল রিপেন সুইমিং ক্লাবের উদ্যোগে পুলটি পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।


সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সুইমিং পুলটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় পুলে ময়লা-আবর্জনা জমে এবং বিভিন্ন সরঞ্জামও অকার্যকর হয়ে পড়ে। পরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য পুলটি লিজ নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে পুল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা তৈরির কাজ করা হয়েছে।


ক্রিস্টেল রিপেন সুইমিং ক্লাবের পরিচালক ও রাজশাহী মহানগর যুব দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. উজ্জল আলী বলেন, দীর্ঘদিন পুলটি অকার্যকর থাকায় উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েরা সাঁতার শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নগরীতে পুকুরের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সাঁতার শেখার সুযোগও দিন দিন সীমিত হচ্ছে। এ অবস্থায় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্কদের সাঁতার শেখার সুযোগ তৈরি করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।


তিনি আরও বলেন, সাঁতার শুধু খেলাধুলা নয়, এটি জীবন রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ একটি দক্ষতা। ভবিষ্যতে সাঁতারকে আরও জনপ্রিয় করার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।


পুল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা শফিউল্লাহ শেখ রিপন জানান, ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে সময় ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি ও কর্মজীবী মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ছেলে ও পুরুষরা সাঁতার কাটতে পারবেন। বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত থাকবে নারী ও মেয়েদের জন্য। এরপর বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খেলোয়াড় ও চাকরিজীবীদের সাঁতার শেখা ও অনুশীলনের সুযোগ থাকবে।


পুল ব্যবহারের জন্য প্রতি ঘণ্টায় জনপ্রতি ১০০ টাকা প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত অবস্থানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি দিতে হবে।


নারী সাঁতারুদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের জন্য পৃথক সময়ের পাশাপাশি ড্রেসিং রুমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া দর্শনার্থী ও সাঁতারুদের ব্যক্তিগত সামগ্রী নিরাপদে রাখার জন্য লকারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। লকার ব্যবহারে অতিরিক্ত ২০ টাকা ফি দিতে হবে। পুল এলাকায় রয়েছে গ্যারেজের ব্যবস্থাও।


আয়োজকদের প্রত্যাশা, পুনরায় চালুর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা সুইমিং পুলটি প্রাণ ফিরে পাবে। পাশাপাশি শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং রাজশাহীতে সাঁতারচর্চার পরিবেশ আরও বিস্তৃত হবে।


আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিং পুলটি আবারও সাঁতারপ্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।



এমকে/বিএম২৪