দাগনভূঞায় বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব, তরুণ সমাজ রক্ষায় সচেতনতা জরুরি

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
দাগনভূঞায় বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব, তরুণ সমাজ রক্ষায় সচেতনতা জরুরি

সংগৃহীত

সাইফ উদ্দিন নিশাত, দাগনভূঞা (ফেনী) প্রতিনিধি


ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাড়া-মহল্লায় কিশোরদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে আড্ডা দেওয়া, ঝগড়া-বিবাদ, ইভ টিজিং ও নানা ধরনের বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। তবে অনেক পরিবার সামাজিক ঝামেলা ও হয়রানির আশঙ্কায় এসব বিষয়ে মুখ খুলতে চায় না। ফলে অনেক ঘটনা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।


কেন বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের প্রবণতা?


সামাজিক বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনায় দেখা যায়, কিশোরদের অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠার পেছনে পারিবারিক অবহেলা, অসৎ সঙ্গ, সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব এবং সামাজিক পরিবেশের প্রভাব থাকতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ কিংবা মিছিলের সঙ্গে অল্পবয়সী কিশোরদের সম্পৃক্ত করার প্রবণতাও তাদের আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


বড়দের সঙ্গে চলাফেরা ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ফলে কিছু কিশোরের মধ্যে ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। বয়স ও অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতার কারণে ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে না পেরে কেউ কেউ ধীরে ধীরে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে।


রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের দায়িত্ব


কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। সভা, মিটিং ও মিছিলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়, যাতে তারা ক্ষমতার অপব্যবহার বা সংঘাতের প্রতি উৎসাহিত হয়। বরং তাদের শিক্ষা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে হবে।


প্রশাসনের নজরদারি ও কাউন্সেলিং


কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত পুলিশি টহল ও নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা কিশোরদের চিহ্নিত করে কাউন্সেলিং, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে কিশোরদের সংশোধন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।


সন্তানের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি


কিশোরদের সঠিক পথে রাখতে অভিভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় সময় কাটাচ্ছে, পড়াশোনায় মনোযোগী কি না এবং সময়মতো বাড়ি ফিরছে কি না—এসব বিষয়ে খোঁজ রাখা প্রয়োজন। পড়াশোনার বাইরে থাকা কিশোরদের খেলাধুলা, কারিগরি প্রশিক্ষণ কিংবা উপযোগী কর্মমুখী কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।


খেলাধুলা ও সুস্থ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা


কিশোরদের বিপথগামিতা রোধে স্থানীয় শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, মুরুব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তাদের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা, পাঠাগারভিত্তিক কার্যক্রম ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং দায়িত্বশীল আচরণের চর্চা জোরদার করা জরুরি।


আগামীর ভবিষ্যৎ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ


আজকের কিশোররাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের বয়স, আবেগ ও সরলতাকে কাজে লাগিয়ে কেউ যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্ব, শিক্ষক এবং অভিভাবকেরা সমন্বিতভাবে কাজ করলে দাগনভূঞার কিশোরদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।


এমকে/বিএম২৪