জাবিতে ‘টেকসই উন্নয়নে ভূবিজ্ঞান' শীর্ষক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
জাবিতে ‘টেকসই উন্নয়নে ভূবিজ্ঞান' শীর্ষক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত

সূত্রঃ সংগৃহীত

জাবি প্রতিনিধি 


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘National Seminar on Geoscience for Sustainable Development’ শীর্ষক দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় সেমিনার শেষ হয়।


বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ, বাংলাদেশ জিওলজিক্যাল সোসাইটি (BGS) এবং জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি জিওলজিক্যাল সায়েন্সেস অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (JUGSAA)-এর যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।


সেমিনারে দেশের খ্যাতিমান ভূবিজ্ঞানী ও গবেষকেরা ভূ-আকৃতি (Landform), জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-দুর্যোগ (Geohazards), পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা প্রবন্ধ ও অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন। চারজন মূল বক্তা টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-দুর্যোগ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ভূ-আকৃতি বিষয়ক তাদের বিভিন্ন গবেষণা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।


মূল প্রবন্ধ উপস্থাপকদের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শরীফ হোসেন খান উপস্থাপন করেন ‘ভূ-আকৃতিগত পর্যবেক্ষণ: পূর্ববর্তী গবেষণা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সমন্বিত পর্যালোচনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ। একই বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.টি.এম. শাখাওয়াত হোসেন উপস্থাপন করেন ‘বাংলাদেশে জলবায়ুজনিত চরম ঘটনা, ভূ-দুর্যোগ এবং টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক গবেষণা। অধ্যাপক ড. খায়রুল বাশার উপস্থাপন করেন ‘বাংলাদেশে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য পানিসংকটাপন্ন এলাকা (ওয়াটার স্ট্রেসড এরিয়া) নির্ধারণ’ বিষয়ক গবেষণা। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন উপস্থাপন করেন ‘ভবিষ্যতের উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জলবায়ু-সহনশীল গবেষণা’ শীর্ষক প্রবন্ধ।

সেমিনারে একটি বিশেষ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চারটি মূল বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিষয়গুলো হলো— ভূ-আকৃতি (ল্যান্ডফর্ম), ভূ-দুর্যোগ (জিওহ্যাজার্ড), পানি সম্পদ (ওয়াটার) এবং জলবায়ু (ক্লাইমেট)।


সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রকে রক্ষা করতে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। তাই প্রকৃত টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমাদের অবশ্যই মানবকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করতে হবে। এছাড়াও মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদজগৎ ও প্রকৃতির সমগ্র জীবন্ত অংশের স্বার্থ ও অধিকারকে সমানভাবে রক্ষা করার উপর জোর দেন তিনি।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, রিসার্চের সাথে পলিসির গ্যাপ থাকায় এনার্জি বা এনভায়রনমেন্টাল ক্রাইসিস নিরসনে আমাদের সক্ষমতা পলিসি মেকারদের বোঝানো যাচ্ছে না, ফলে বিদেশি রিসার্চারদের ওপর ডিপেন্ড করতে হচ্ছে। এই গ্যাপ দূর করে রিসার্চগুলোকে পলিসি মেকারদের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। 


জাবির ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন খলিলুর রহমান-এর অবদান স্মরণ করে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম বলেন, রাজনীতির বাইরে থেকে নীরবে কাজ করা ভূতাত্ত্বিকদের সাথে নীতিনির্ধারক ও রাজনীতিবিদদের সংযোগ না থাকায় তাদের গুরুত্ব মূল্যায়ন করা হয় না। দেশের গ্যাস সংকট, বন্যা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় উত্তরণে তাদের গবেষণা রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।


সভাপতির বক্তব্যে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হুসাইন মো. সায়েম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে ভূতাত্ত্বিক তথ্যকে পরিকল্পিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নীতিনির্ধারণ হতে হবে বিজ্ঞাননির্ভর। পাশাপাশি, স্কুল ও কলেজ পর্যায় থেকেই শিক্ষাক্রমে ভূতত্ত্ব ও পৃথিবীবিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, যাতে নতুন প্রজন্ম ছোটবেলা থেকেই পরিবেশগত দায়িত্ববোধ ও দুর্যোগ সচেতনতা গড়ে তুলতে পারে।


উক্ত অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন, অধ্যাপক ড. মো সাখাওয়াত হোসেন এবং সদস্য সচিব ছিলেন অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মো সায়েম। আয়োজকরা জানান, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য উন্মুক্ত এ সেমিনারে ভূবিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।