চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রে নাব্যতা সংকট, ১৫ দিন ধরে বন্ধ ফেরি
সূত্রঃ সংগৃহীত
শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে আবারও নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। এতে গত ১৪ আগস্ট থেকে টানা ১৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে ফেরি চলাচল। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও শ্রমিকরা।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, নৌপথের কয়েকটি এলাকায় পানি কমে যাওয়ায় ফেরি চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। তবে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, চ্যানেল নিয়মিত ড্রেজিং না করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই বারবার এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএর উদ্যোগে চিলমারী-রৌমারী নৌপথে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয় ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। শুরুতে দুটি ফেরির মাধ্যমে পণ্যবাহীসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পারাপার করা হতো। ফেরি কুঞ্জলতা প্রতি ট্রিপে ৮ থেকে ৯টি, বেগম সুফিয়া কামাল ১২ থেকে ১৩টি এবং কদম ৮ থেকে ৯টি পণ্যবাহী যান পারাপার করতে পারত।
পরবর্তীতে বেগম সুফিয়া কামাল ও কুঞ্জলতা ফেরি সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে কদম ফেরিটি থাকলেও নাব্যতা সংকটে সেটিও চলাচল করতে পারছে না।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৫ দিনের মধ্যে নাব্যতা সংকটের কারণে এ নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল প্রায় ৫৪১ দিন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে চিলমারী নৌবন্দর এলাকায় গিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকতে দেখা যায়। সেখানে অবস্থানরত ভুরুঙ্গামারী থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকচালক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, “ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় প্রায় ১৫টি ট্রাক ফিরে গেছে। আমিও এসে দেখি ফেরি বন্ধ। তাই ফিরে যাচ্ছি।”
রংপুর থেকে আসা ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম বলেন, “সাত দিন ধরে ঘাটে আছি। শুনছি ফেরি চলবে, কিন্তু আর ফেরি চলে না। আজও যদি ফেরি না চলে, তাহলে অনেক পথ ঘুরে ঢাকায় যেতে হবে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়বে।”
বিআইডব্লিউটিসি চিলমারীর সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ বলেন, রৌমারী ঘাট ও দুইশ বিঘা এলাকায় পানি কম থাকায় ১৪ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ওই দুই এলাকায় ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, “১৫ আগস্ট ড্রেজিং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আরও দুটি ড্রেজার পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা পাঠানো হয়নি। তিন-চার দিন আগে রৌমারীতে গিয়ে দেখি ঘাট এলাকায় ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফেরি এভাবে বন্ধ থাকলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এটি আমাদের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।”
ড্রেজিংয়ের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী সমীর চন্দ্র পাল বলেন, রৌমারী ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের বাধার কারণে খননকাজ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে শুধু দুইশ বিঘা এলাকায় খনন চলছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ফেরি সার্ভিস দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।









