চবিতে আড়াই হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
চবিতে আড়াই হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন

সূত্রঃ সংগৃহীত

আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রায় আড়াই হাজার নবীন শিক্ষার্থীকে নিয়ে নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। শনিবার (২৯ আগস্ট) চবি সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।


বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, চাকসুর সাবেক ভিপি ও চবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জসিমউদদীন সরকার, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক ও চবি শাখার সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম, কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ মোহাম্মদ আবু মূসা এবং চাকসুর জিএস ও চবি ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাইদ বিন হাবীব।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাকসুর ভিপি ও চবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন চবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাবিবুল্লাহ খালেদ।


দুই পর্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। এতে বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল, মেরিন সায়েন্স ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের নবীন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। দ্বিতীয় পর্বে কলা ও মানববিদ্যা, সমাজবিজ্ঞান, আইন ও শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।


আবাসনসংকট নিয়ে ছাত্রশিবির সভাপতির সমালোচনা


প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনসংকট নিয়ে সমালোচনা করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।


তিনি বলেন, দেশে নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষক পদ সৃষ্টি করা হলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়নি।


নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত না করে আর কোনো নতুন বিশ্ববিদ্যালয় করা উচিত নয়। একটি হলের সিটের জন্য কেন একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে নেতার পেছনে ঘুরতে হবে?”


ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর কোনো শিক্ষার্থী বা নির্বাচিত প্রতিনিধির হলে থাকার সুযোগ থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনার্স-মাস্টার্স শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হল ছাড়ার ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসে গণরুম ও গেস্টরুমের ‘অপসংস্কৃতি’ বন্ধ করে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


‘দেশের উন্নয়নে যোগ্য তরুণ প্রয়োজন’


প্রধান আলোচক মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, দেশের উন্নয়নে প্রতিভাবান ও যোগ্য তরুণদের প্রয়োজন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যোগ্য তরুণ সমাজই বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।


নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এই পৃথিবী প্রতিভাবানদের। আপনারা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে সুপ্ত রাখবেন না।”


যোগ্যতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তরুণেরা এগিয়ে এলে বাংলাদেশ নতুন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বড় কোনো পদে বসলেই মানুষ সম্মানিত হন না উল্লেখ করে শিশির মনির বলেন, ব্যক্তির যোগ্যতা, নীতি ও কাজের মাধ্যমেই পদ সম্মানিত হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রে ন্যায়নীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান শিক্ষার্থীদের দক্ষ, যোগ্য ও সৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়নের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।


নবীন শিক্ষার্থীদের বেশি করে বই পড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে যত বেশি বই পড়বে, তার চিন্তাভাবনা ও মনের জগৎ তত বিস্তৃত হবে।


চাকসুর সাবেক ভিপি ও চবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জসিমউদদীন সরকার নবীন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। শিক্ষা জীবনের শুরুতেই ভালো ফলাফল ভবিষ্যতের পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


‘ন্যায়সংগত লড়াই চলবে’


সভাপতির বক্তব্যে চাকসুর ভিপি ও চবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কারিকুলাম সফল করতে শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাসকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করা এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য শাটল ট্রেনের সুব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই ন্যায়সংগত লড়াই চলবে।”


গত তিন বছর ধরে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সাড়া পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি ক্যারিয়ার গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।