কুবিতে ‘বিগ ব্যাং থিওরি’ নিয়ে সায়েন্স টক, কুইজে সেরা মুহিব

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
কুবিতে ‘বিগ ব্যাং থিওরি’ নিয়ে সায়েন্স টক, কুইজে সেরা মুহিব

ছবি: বিডি মেইল

কুবি প্রতিনিধি


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ‘বিগ ব্যাং থিওরি: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু দ্য এক্সপ্যান্ডিং ইউনিভার্স’ শীর্ষক সায়েন্স টক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ক্লাবের (সিওইউএসসি) উদ্যোগে পাঠচক্রের অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।


বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সেমিনার কক্ষে এ সায়েন্স টক অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সায়েন্স ক্লাবের মডারেটর ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মাহবুব। তিনি বিগ ব্যাং তত্ত্ব, মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও সম্প্রসারণ এবং মহাবিশ্বের বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ওসমান গনিসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও ক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


আলোচনা শেষে একটি কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন গণিত বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুর মোরশেদ হোসেন মুহিব। দ্বিতীয় হন একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তামান্না আক্তার এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লিলয় কুমার দাস। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।


প্রথম স্থান অর্জনকারী নুর মোরশেদ হোসেন মুহিব বলেন, “এমন একটি পাঠচক্রের মাধ্যমে মহাবিশ্বের উৎপত্তি, বিবর্তন ও সম্প্রসারণ সম্পর্কে নতুন অনেক তথ্য জানতে পেরেছি। ক্লাবের প্রতি আহ্বান, ভবিষ্যতেও যেন এ ধরনের জ্ঞানভিত্তিক পাঠচক্র ও শিক্ষার্থীদের বিকাশে সহায়ক সৃজনশীল কার্যক্রম আয়োজন অব্যাহত রাখা হয়।”


ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ওসমান গনি বলেন, “আজকের আয়োজনটি ছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের নিয়মিত কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাঠচক্রের ধারাবাহিকতায় সায়েন্স টক আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান ও চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটানোর চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি, নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানমনস্ক ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের খুঁজে বের করা এবং তাদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বৈজ্ঞানিক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।”


তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান অর্জনেই নয়, বরং যুক্তিবাদী চিন্তা, কৌতূহল ও অনুসন্ধিৎসু মনোভাব গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলো একদিন বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার পথে বড় অবদান রাখবে বলে বিশ্বাস করি। বিজ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি শিক্ষার্থীর মনে।”


সায়েন্স ক্লাবের মডারেটর অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, “বিজ্ঞান সংগঠনগুলো সাধারণত সাপ্তাহিক বা মাসব্যাপী পাঠচক্রের মাধ্যমে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘বিগ ব্যাং থিওরি: অ্যান ইন্ট্রোডাকশন টু দ্য এক্সপ্যান্ডিং ইউনিভার্স’ শীর্ষক পাঠচক্রের আয়োজন করা হয়েছে। এতে মহাবিশ্বের সূচনা ও সম্প্রসারণ, গণিত, কসমোলজি এবং অ্যাস্ট্রোনমি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।”


তিনি আরও বলেন, মহাবিশ্ব বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় প্রয়োগক্ষেত্র ও বিজ্ঞানাগার, যেখান থেকে বড় বড় আবিষ্কারের সূত্র পাওয়া যায়। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের জনপ্রিয় বিজ্ঞানবিষয়ক বক্তৃতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব আয়োজন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।