কাপ্তাই বাঁধের ১৬ গেট খুলে পানি ছাড়, নিম্নাঞ্চলে সতর্কতা

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
কাপ্তাই বাঁধের ১৬ গেট খুলে পানি ছাড়, নিম্নাঞ্চলে সতর্কতা

সূত্রঃ সংগৃহীত

কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি


টানা বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে প্রতিটি গেট ৩ ফুট করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হয়।


কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, ১৬টি গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।


এর আগে শনিবার রাত ৮টার দিকে প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়। পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে গেটের উচ্চতা ১ ফুট করা হলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেকে দাঁড়ায়। রোববার সকালে গেট ২ ফুট খোলার পর স্পিলওয়ে দিয়ে প্রায় ৩৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন হচ্ছিল।


কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার সকাল ৮টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৬ দশমিক ২ ফুট এমএসএল। হ্রদটির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৮ ফুট এমএসএল।


গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কাপ্তাই ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানি হ্রদে প্রবেশ করায় গত কয়েক দিনে পানির স্তর দ্রুত বেড়েছে। হ্রদের পানি ধারণক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছানোয় বাঁধের ওপর চাপ কমাতে অতিরিক্ত পানি স্পিলওয়ের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।


এদিকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটও চালু রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে এসব ইউনিট থেকে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। এর সঙ্গে স্পিলওয়ের পানি যোগ হওয়ায় নদীতে পানির প্রবাহ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


পানি ছাড়ার ফলে কাপ্তাই, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানির উচ্চতা বাড়তে পারে। এ কারণে নদীতীরবর্তী বাসিন্দা ও চলাচলকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।