এসিল্যান্ড নেই ভেদরগঞ্জে, আটকে আছে ভূমিসেবা
ছবি: বিডি মেইল
রবিউল মোল্লা, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড পদটি শূন্য রয়েছে। এতে ভূমিসেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন উপজেলার বাসিন্দারা। নামজারি, খাজনা আদায়, জমির পরিমাণ নির্ধারণ, খতিয়ান সংশোধন ও জমি কেনাবেচাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর বাড়ছে কাজের চাপ, আর সময়মতো সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর জেলার সবচেয়ে জনবহুল উপজেলা ভেদরগঞ্জ। দুটি থানা নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাস। প্রতি মাসে এখানে গড়ে দুই হাজারের বেশি নামজারির আবেদন জমা পড়ে। চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে.এম. রাফসান রাব্বি বদলিজনিত কারণে নারায়ণগঞ্জে চলে যান। এরপর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে।
বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবকর সিদ্দিক অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভূমি অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে একাধিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নিয়মিত ভূমি অফিসের সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা ভূমিসেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
ভুক্তভোগী প্রবাসী খলিল মিয়া বলেন, ‘আমি এক মাস আগে নামজারির জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু কাজের ধীরগতির কারণে এখনো নামজারি করতে পারিনি। অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ রেখে একাধিকবার ভূমি অফিসে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। অনলাইন ব্যবস্থায় ২৮ দিনে নামজারি নিষ্পত্তি হওয়ার কথা থাকলেও এসিল্যান্ড না থাকায় দীর্ঘ সময় লাগছে। আমি প্রবাসী মানুষ, এদিকে ছুটির মেয়াদ শেষ। এখন কী করব বুঝতে পারছি না। কবে এসিল্যান্ড আসবেন, সেটিও কেউ বলতে পারছেন না।’
জমি বিক্রি করে মায়ের চিকিৎসা করানোর পরিকল্পনা করেছেন ক্যানসারে আক্রান্ত জসিম খালাসি। তাঁর মা সুফিয়া খাতুনও ক্যানসারে আক্রান্ত। চিকিৎসার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় বাড়ির পাশের এক প্রতিবেশীর কাছে জমি বিক্রি করেছেন তিনি। কিন্তু জমি গ্রহীতাকে দলিল করে দিতে না পারায় ক্রেতা টাকা বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। এদিকে নামজারি না হওয়ায় জমির দখলও বুঝে নিতে পারছেন না জসিম। সব মিলিয়ে তাঁর মায়ের চিকিৎসা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দুই মাস আগে নামজারির জন্য আবেদন করেছিলাম। এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। অফিসের কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না, কবে নাগাদ নামজারি সম্পন্ন হবে। একটি উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে এসিল্যান্ড নেই, এটা হতে পারে? এভাবে আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে, আল্লাহ ভালো জানেন।’
উপজেলা ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, ভেদরগঞ্জ উপজেলার অধীনে থাকা সহকারী ভূমি অফিসগুলো সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বারা পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসিল্যান্ড না থাকায় এসব অফিসেও ভূমিসেবা ব্যাহত হচ্ছে। নামজারি ও জমাখারিজের কাজ ধীরগতিতে চলছে। এতে সেবাগ্রহীতারা যথাসময়ে সেবা পাচ্ছেন না। বিষয়টি তাঁদের বোঝানোও কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে কর্মকর্তা পদায়নের জন্য জেলা প্রশাসককে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। বর্তমানে ভূমি অফিসের সেবা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে এসিল্যান্ড পদায়ন করা হবে।









