এমপিকে ঘিরে ছড়ানো ভিডিও এআইতে তৈরি, দাবি গুরুদাসপুর বিএনপির

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
এমপিকে ঘিরে ছড়ানো ভিডিও এআইতে তৈরি, দাবি গুরুদাসপুর বিএনপির

ছবি: বিডি মেইল

মো. আব্দুর রউফ, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি


নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর–বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৯ মিনিটের একটি অন্তরঙ্গ ভিডিও নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি বলে দাবি করেছে গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপি। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়েছে দলটি। এদিকে, ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে নাটোর জেলা বিএনপি।


বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের নয়াবাজার এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করা হয়।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। তিনি দাবি করেন, সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ভিডিওটি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি।


লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বুধবার সকাল ১১টার দিকে প্রবাসে অবস্থানকারী আশফাক আহমেদ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি চারটি পর্বে প্রকাশ করেন। ‘পর্ব-১’, ‘পর্ব-২’, ‘পর্ব-৩’ ও ‘পর্ব-৪’ নামে প্রকাশিত ভিডিওগুলোর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৯ মিনিট। পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।


সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এর আগে আশফাক আহমেদ সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে ফোন করে বড়াইগ্রামের সাংবাদিক উমর দি কস্তা এবং একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকাকে অন্যত্র বদলি করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই অনুরোধ রাখা না হলে সংসদ সদস্যের অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন মোহাম্মদ আলী।


লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সংসদ সদস্য ওই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার পর ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভিডিওটির প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণে ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভিডিও প্রকাশের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।


এ সময় উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, ওলামা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


এদিকে, ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নজরে আসার পর বুধবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নাটোর জেলা বিএনপি। এ বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।


তবে ভিডিওটির সত্যতা, এর উৎস এবং তৈরির সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ ও আশফাক আহমেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনে ভিডিওটির প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।