উত্তরঙ্গের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে রাজশাহী মুক্তমঞ্চ
সূত্রঃ সংগৃহীত
আবু কাওসার মাখন;বিশেষ প্রতিনিধি
পদ্মার হিমেল হাওয়া, সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য আর হাজারো মানুষের কোলাহল—সব মিলিয়ে রাজশাহীর পদ্মা পাড়ের মুক্তমঞ্চ এখন কেবল বিনোদনের স্থান নয়, বরং উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির নগরী রাজশাহীর ঐতিহাসিক টি-বাঁধ ও লালনশাহ পার্ক সংলগ্ন এই মুক্তমঞ্চটি প্রতিদিন হাজারো স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটককে আকর্ষিত করছে।
পদ্মা নদীর কোল ঘেঁষে অবস্থিত এই মুক্তমঞ্চে প্রায় প্রতিদিনই বসে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন। স্থানীয় নাট্যদল, সংগীতশিল্পী ও তরুণ আবৃত্তিকারদের মুক্ত পরিবেশনার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি, পথনাটক এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উৎসব উদযাপিত হয় এখানে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে সূর্যাস্তের পরপরই তরুণ-তরুণী ও পরিবারের সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
মুক্তমঞ্চে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি মেটাতে পদ্মার পাড়ের বাতাস ও মুক্তমঞ্চের সাংস্কৃতিক আবো হাওয়া এক অদ্ভুত প্রশান্তি জোগায়। কোনো কৃত্রিমতা ছাড়া নদীর পাড়ে বসে গান শোনা বা নাটক দেখার এই অভিজ্ঞতা রাজশাহীর বিনোদন ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সিটি কর্পোরেশন ও পরিবেশপ্রেমীদের উদ্যোগের ফলে এলাকাটিতে পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার মানও নজরকাড়া। তবে দর্শনার্থীদের ক্রমবর্ধমান চাপের কথা মাথায় রেখে মুক্তমঞ্চ কেন্দ্রিক অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা আরও বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
নদী, প্রকৃতি আর সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন বজায় থাকলে মুক্তমঞ্চ পদ্মার পাড় কেবল রাজশাহী নয়, বরং পুরো দেশের সাংস্কৃতিক পর্যটনের ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমকে/বিএম২৪









