পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

সংগৃহীত

 বিনোদন ডেস্ক


ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।


বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন।


আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে, পরীমণির আইনজীবী সময় চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে পরীমণির জামিন বাতিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।


এর আগে, ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই দিনও পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পরীমণি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।


পরে আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমণি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৫ জুন তাঁরা ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।


২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। অন্য দুই আসামি হলেন পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।


মামলার অভিযোগে নাসির উদ্দিন উল্লেখ করেন, পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে গিয়ে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। এ ছাড়া পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখানোর অভিযোগও করেন তিনি।


মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। তাঁরা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন এবং পরে ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।


অভিযোগে বলা হয়, রাত ১টা ১৫ মিনিটে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমণি তাঁকে ডেকে কিছুক্ষণ বসার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে পরীমণি একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। নাসির উদ্দিন রাজি না হওয়ায় তাঁকে গালমন্দ করা হয়। পরে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমণি তাঁর দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ও হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে নাসির উদ্দিনের মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে দাবি করেন বাদী।


মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা নাসির উদ্দিনকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেন এবং বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরীমণি সাভার থানায় নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।


এমকে/বিএম২৪