চবিতে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের উদ্বোধন

প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬, ১২:০১ এএম
চবিতে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের উদ্বোধন

আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) উদ্বোধন করা হয়েছে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন। এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলের স্যাটেলাইটভিত্তিক তথ্য সরাসরি সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের সক্ষমতায় নতুন যুগে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (৯ জুন)  বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত ‘স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টার’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পর্দা উন্মোচনের মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ স্থাপনাটির উদ্বোধন করেন।১০-১৫ মিনিটেই মিলবে বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলের স্যাটেলাইট তথ্য।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শেওপেং এবং সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির ডেপুটি ডিরেক্টর প্রফেসর ড. ফু বিন।

প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৬০ কোটি টাকার কারিগরি ও যান্ত্রিক সহায়তা প্রদান করেছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে বিদেশি সংস্থার তথ্যের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পূর্বাভাস পেতে ২০ থেকে ৩০ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে নতুন এই গ্রাউন্ড স্টেশন চালু হওয়ায় মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই উপকূলীয় এলাকার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।

প্রায় ৪২০ টেরাবাইট তথ্য সংরক্ষণ সক্ষমতাসম্পন্ন এই স্টেশন বিশ্বের ১১টি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস, নদীভাঙন, মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বন উজাড়সহ পরিবেশ-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দ্রুত পাওয়া যাবে।

বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে অতিক্রমকারী একাধিক ওশান ও আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, মেঘের গতিবিধি ও অন্যান্য পরিবেশগত উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা আগেই ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সতর্কবার্তা প্রদান করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান অনুষদে এ স্টেশনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন প্রকল্পের লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, উচ্চগতির ইন্টারনেটসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা, মাছ আহরণ, নৌপরিবহন এবং উপকূলীয় উন্নয়নে এই স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”