সেচ সুবিধায় বদলে যাচ্ছ,শ্যামনগর উপজেলা বোরো ধান চাষে কৃষকদের নতুন স্বপ্ন

প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
সেচ সুবিধায় বদলে যাচ্ছ,শ্যামনগর উপজেলা বোরো ধান চাষে কৃষকদের নতুন স্বপ্ন

মাসুম বিল্লাহ, উপকূলীয় (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি  :

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার একসময় লবণাক্ত পানির কারণে কৃষিকাজে ছিল সীমাবদ্ধ। বর্ষা মৌসুমে আমন ধান ছাড়া অন্য কোনো ফসল তেমন উৎপাদন হতো না। কিন্তু এখন সেই চিত্র পাল্টে গেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বিএডিসি'র যৌথ উদ্যোগে সেচের পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ায় কৃষিতে এসেছে নতুন সম্ভাবনা। এরই ধারাবাহিকতায় এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে বোরো ধানের চাষ, যা ইতোমধ্যে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রবিবার ২০ই এপ্রিল বিকাল ০৫ টায়, স্থানীয় কৃষক নিশিকান্ত হালদার জানান, চলতি বছর তিনি নতুন করে ৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। তিনি বলেন, “বেশি লাভের আশায় এই চাষ নতুন করে শুরু করেছি। হিসাব করে দেখছি, বাজারে ভালো দাম পেলে বেশ লাভবান হওয়া সম্ভব। তাই আগামীতে ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।” একইভাবে আরো অন্যান্য কৃষকরা জানান বোরো ধানে অনেক বেশি পরিমাণ ফলন হয়।সেজন্য তারা আগামীতে আরো বেশি জমিতে বোরো ধান উৎপাদন করতে আগ্রহী প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় কৃষকদের এমন আগ্রহের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা মোঃ শামসুর রহমান। তাঁর পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে বর্তমানে প্রায় তিন হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হচ্ছে। তিনি জানান, “সেচের পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ায় এই এলাকায় নতুন করে বোরো ধান চাষ সম্ভব হয়েছে। ফলনও আশাব্যঞ্জক। কৃষকরা উৎসাহিত হয়ে আগামীতে আরও বেশি জমিতে এই চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন।”

কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত বোরো ধান চাষ শুধু নতুন একটি ফসলই নয়, বরং এই অঞ্চলের কৃষিতে বৈচিত্র্য ও স্থায়িত্ব এনে দিচ্ছে।

লবণাক্ত জমিতেও তুলনামূলক ভালো ফলন হওয়ায় এটি উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য উপযোগী ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সেচ সুবিধায় ও পরিচর্যায় চাষ সম্ভব হওয়ায় উৎপাদন খরচ কম। জমির উর্বরতা বজায় রাখতে সহায়ক হওয়ায় এটি ফসল বিন্যাসে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। কৃষকদের বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি করছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। কৃষকদের মতে, বোরো ধান চাষে খরচ হিসাব করেও অধিক লাভের সম্ভাবনা থাকায় দিন দিন এ চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। একসময় যেখানে লবণাক্ততার কারণে কৃষি ছিল অনিশ্চিত, সেখানে এখন বোরো ধান চাষে নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। শংকরকাটি গ্রাম ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে সম্ভাবনাময় একটি কৃষি অঞ্চলে।