মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ছায়া রাজশাহীতে: তেলের দাম বাড়ার শঙ্কায় পেট্রোল পাম্পে উপচে পড়া ভিড়

প্রকাশিত: ০৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ছায়া রাজশাহীতে: তেলের দাম বাড়ার শঙ্কায় পেট্রোল পাম্পে উপচে পড়া ভিড়

ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী প্রতিনিধি:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ইরানের হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার খবরে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে রাজশাহী নগরীতেও। সম্ভাব্য তেলের দাম বাড়ার শঙ্কায় নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে যানবাহনের মালিকদের ভিড় বেড়েছে। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করে রাখছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল থেকেই নগরীর প্রায় সব পেট্রোল পাম্পে বাড়তি ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে মতিহার থানার অক্ট্রয় মোড় এলাকার নয়ন পেট্রোল পাম্পসহ কয়েকটি পাম্পে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, ট্রাক ও বাসের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

বিকাল বেলায় তেল নিতে আসা মাইক্রোবাসচালক মো. সাদ্দাম ও মো. পিয়াস আলী জানান, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির খবর দেখছেন তারা। যুদ্ধের বিস্তার বাড়লে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই তারা আগাম প্রস্তুতি হিসেবে গাড়িতে প্রায় ৬০ লিটার পেট্রোল ভরে রেখেছেন।

মোটরসাইকেল নিয়ে তেল নিতে আসা সাপ্তাহিক বাংলার বিবেক পত্রিকার সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা জামান বলেন, আন্তর্জাতিক সংবাদে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে এবং সেখানে বহু তেলবাহী ট্যাংকার আটকে পড়েছে বলে প্রচার হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম মনে হওয়ায় তিনি আগাম প্রস্তুতি হিসেবে মোটরসাইকেলের ট্যাংকি পূর্ণ করেছেন।

নয়ন পেট্রোল পাম্পের মালিক মো. আব্দুল হাই বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনার খবর প্রকাশের পর থেকেই অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল নিচ্ছেন। ফলে সাধারণ দিনের তুলনায় শুক্রবার সকাল থেকেই পাম্পে ভিড় বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় সেখানে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে রাজশাহীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত তেল সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পাম্প মালিকরা। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে এর প্রভাব দেশের জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।