জাবিতে ভিন্নমত প্রকাশের জেরে শিক্ষার্থীদের 'পটেনশিয়াল রেপিস্ট' ট্যাগিং, বিচারের দাবি

প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
জাবিতে ভিন্নমত প্রকাশের জেরে শিক্ষার্থীদের 'পটেনশিয়াল রেপিস্ট' ট্যাগিং, বিচারের দাবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ভিন্নমত প্রকাশের জেরে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'পটেনশিয়াল রেপিস্ট' অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী চারুকলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ফারহানা আলম লামিয়া।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান বিভিন্ন ইস্যুতে একদল শিক্ষার্থীর 'অপ-রাজনীতির' প্রতিবাদে কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে সম্প্রতি একটি ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করেন। যার মূল বিষয়বস্তু ছিল-"ক্যাম্পাসের চলমান ইস্যুকে কেন্দ্র করে একদল শিক্ষার্থীর অপ-রাজনীতির মাধ্যমে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি"। কনটেন্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, ভিডিওর মূল ভাবনার সাথে দ্বিমত পোষণ করে একটি গোষ্ঠী কনটেন্টে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু বানায়। ভুক্তভোগীদের দাবি, চারুকলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারহানা আলম লামিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের উদ্দেশ্য করে "পটেনশিয়াল রেপিস্ট" বলে ট্যাগিং করেন। একই সাথে বিভিন্ন মেসেঞ্জার গ্রুপেও তাঁদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে শিক্ষার্থীদের উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যাম্পাসে আন্দোলন বা মতভেদ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে সেই অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে এভাবে ট্যাগিং করা অত্যন্ত মানহানিকর, অযৌক্তিক এবং মানসিকভাবে পীড়াদায়ক, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্থ পরিবেশের পরিপন্থী।

আবেদনপত্রের শেষে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনার যদি সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হয়, তবে ভবিষ্যতে ভিন্নমতের অন্যান্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অপসংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত থাকবে।।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম রাশিদুল আলম বলেন,‌ আমরা অভিযোগ পত্র পেয়েছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নিকট পাঠিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।