ফারাক্কা বাঁধ আধিপত্যবাদের হাতিয়ার: চবিতে চাকসুর আলোচনা সভায় বক্তারা
আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি:
ফারাক্কা লং মার্চ দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-এর উদ্যোগে “ফারাক্কা বাঁধ: আধিপত্যবাদের নির্মম গ্রাসে বাংলাদেশ” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (১৮ মে ২০২৬) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, ফারাক্কা বাঁধ ইস্যু দীর্ঘমেয়াদী একটি অমীমাংসিত বিষয় এবং এটি শুধু পানির সমস্যা নয়, বরং একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক ইস্যু। তিনি বলেন, “ভারত ফারাক্কা বাঁধকে আধিপত্যবাদ টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। যখন বাংলাদেশের পানি প্রয়োজন হয় তখন পাওয়া যায় না, আবার প্রয়োজন না থাকলে পানি উপচে পড়ে।”
তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখনো অসম অবস্থায় রয়েছে। রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্কের পরিবর্তে সরকারের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী বলেন, ফারাক্কা ইস্যু বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ইতিহাস চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ভারতের আগ্রাসী মনোভাব বহু আগে থেকেই বিদ্যমান। তিনি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী-এর ফারাক্কা আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, “আজকের সময়েও ভাসানীর মতো নেতৃত্ব প্রয়োজন।”
বক্তারা বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক মোনায়েম শরীফ।
আলোচনা সভায় চাকসুর অন্যান্য প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে চাকসু আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বই পাঠ প্রতিযোগিতা এবং মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।








