কালিয়াকৈর মেদী আশুলিয়া বড়পুকুরপাড়ে টিকিটের মাধ্যমে বরশি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা শুরু

প্রকাশিত: ০৮ মে ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
কালিয়াকৈর মেদী আশুলিয়া বড়পুকুরপাড়ে টিকিটের মাধ্যমে বরশি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা শুরু

শাকিল হোসেন,  কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মেদী-আশুলিয়া এলাকার বড় পুকুরপাড়ে টিকিটের মাধ্যমে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

 শুক্রবার (৮ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পাশের উপজেলা থেকে আসা শতাধিক মাছ শিকারি অংশ নেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে পুকুরপাড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রতিজনকে নির্ধারিত মূল্যে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়েছে। প্রতিযোগিতার জন্য পুকুরে আগে থেকেই রুই, কাতলা, মৃগেল ও কার্পজাতীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অবমুক্ত করা হয়।

সকাল থেকেই প্রতিযোগীরা নিজ নিজ অবস্থান নিয়ে বড়শি ফেলেন পানিতে। কেউ কেউ বড় মাছ শিকার করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

মাছ ধরতে আসা প্রতিযোগী সবুজ মিয়া বলেন, “এ ধরনের আয়োজন গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনছে। বন্ধুদের সঙ্গে এসে মাছ ধরতে অনেক ভালো লাগছে।

আরেক প্রতিযোগী ফয়সাল আহমেদ বলেন, “সকাল থেকেই চেষ্টা করছি বড় মাছ ধরার জন্য। পরিবার নিয়েও এখানে এসেছি, বেশ আনন্দ লাগছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বারেক জানান, “আগে গ্রামে এমন আয়োজন বেশি হতো, এখন কমে গেছে। এই প্রতিযোগিতার কারণে এলাকার মানুষ একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছে।”

এলাকাবাসী আজিজ দাবি, এমন আয়োজন তরুণদের মোবাইল ও অনলাইন আসক্তি কমিয়ে গ্রামীণ বিনোদনের দিকে আগ্রহ বাড়াবে।

আয়োজক কমিটির সদস্য খালেক জানান, প্রতিযোগিতা শেষে সবচেয়ে বেশি ও বড় মাছ শিকারকারী প্রতিযোগীদের পুরস্কৃত করা হবে। এছাড়া দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক টিম কাজ করছে বলেও জানান তারা।

কালিয়াকৈর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, “গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তবে মাছের প্রজনন মৌসুম ও সরকারি নিয়ম মেনে আয়োজন পরিচালনা করা জরুরি। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ ধরনের প্রতিযোগিতা স্থানীয় পর্যায়ে বিনোদনের পাশাপাশি সচেতনতাও বৃদ্ধি করে।