এক দিনের ছুটি, ১০ বছর অনুপস্থিত দুই চিকিৎসক

প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
এক দিনের ছুটি, ১০ বছর অনুপস্থিত দুই চিকিৎসক

মোঃ তানজু আহমেদ, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক দিনের ছুটি নিয়ে টানা ১০ বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন দুই চিকিৎসক। ঘটনাটি শুধু বিস্ময়করই নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা ও প্রশাসনিক নজরদারির বড় ব্যর্থতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

অনুপস্থিত দুই চিকিৎসক হলেন—রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক) আবুল কাশেম মহিউদ্দিন এবং উপজেলার সাইচা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার কাজী সামসুদ্দোহা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম।

জানা যায়, আবুল কাশেম মহিউদ্দিন ২০১৫ সালের ৬ এপ্রিল অর্থোপেডিক চিকিৎসক হিসেবে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন। অন্যদিকে, কাজী সামসুদ্দোহা ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর সাইচা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে তারা পারিবারিক কারণ দেখিয়ে এক দিনের ছুটি নেন। এরপর কেটে গেছে প্রায় এক দশক—তারা আর কর্মস্থলে ফেরেননি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই সময় থেকে তারা কোনো বেতন-ভাতা উত্তোলন করেননি। তাদের স্থায়ী ঠিকানায় একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও প্রাপক না পাওয়ায় সব চিঠি ফেরত এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

প্রতি মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জনবল পরিস্থিতির প্রতিবেদন লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে নিয়মিতই এই দুই চিকিৎসকের অনুপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও, দীর্ঘ ১০ বছরেও তাদের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়নি। ফলে নতুন চিকিৎসক নিয়োগও সম্ভব হয়নি।

এদিকে, প্রায় চার লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা দিতে বর্তমানে মাত্র ২১ জন চিকিৎসক নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এতে করে সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, রায়পুর উপজেলা শাখার সভাপতি সাব্বির আলম মিয়াজী বলেন, “আইন ভঙ্গ করে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ সময়ে নতুন চিকিৎসক পদায়ন করা যেত—কিন্তু তা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. বাহারুল আলম বলেন, “দুই চিকিৎসকের অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু পদ শূন্য ঘোষণা না হওয়ায় নতুন নিয়োগ দেওয়া যায়নি। তাদের কর্মস্থলে ফেরাতে একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।”

স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এমন দীর্ঘ অনুপস্থিতি ও প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।