উলশী খাল খননের উজ্জ্বল স্মৃতি

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
উলশী খাল খননের উজ্জ্বল স্মৃতি

মালিকুজ্জামান কাকা :

২৭ এপ্রিল ২০২৬। দীর্ঘ ৫০ বছর পর আবার সরকার প্রধান উলশী খাল খনন কাজ উদ্বোধন করছেন। সেবার করেছিলেন তার পিতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এবার প্রধানমন্ত্রী ছেলে তারেক রহমান। 

রাষ্ট্রপতি সেবার যখন খাল খনন করতে যান। সেই যাত্রায় তার সহযোগী ছিলেন যশোর শহরের গাঁ ঘেঁষা চাঁচড়ার এক পাল মানুষ। বাসে ওঠার আগে সবাইকে নিয়ে ছবি তুলেছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হোসেন মল্লিক। তার নেতৃত্বেই বাসে রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হয়েছিলেন চাঁচড়ার জাতীয়তাবাদী চেতনার এসব মানুষ। আজ তোজাম্মেল মল্লিক পৃথিবীতে নেই। তবে তার ছেলে সান্টু মল্লিক পিতার উলশী খাল খননে বাস যাত্রার সেই ছবিটি আজো আগলে রেখেছেন। ২৬ এপ্রিল তিনি ছবিটি দেখালেন। তার চাঁচড়া মল্লিকপাড়াস্থ ট্রাক্টর পার্টস ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ছবিটি যত্নে রাখা।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কোলে উঠেছেন এই মানুষ। তবে আজ আর শিশু নেই। এখন আর শিশু নেই এমদাদুল হক মল্লিক সান্টু। এখন তার বয়স ৫৪/৫৫ বছর। 

পিতার ১০ ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে সান্টু মল্লিক ভাইয়ের মধ্যে সপ্তম ভাইবোন মিলে দশম। তার মায়ের নাম হামিদা বেগম। 

তোজাম্মেল হোসেন মল্লিক। চাঁচড়া মল্লিকপাড়ায় বাড়ি। বাজার মোড়ে বসবাস করতেন। ছবিটি চাঁচড়া মোড় থেকে তোলা। উলাশী খাল খনন করতে রাষ্ট্রপতির সাথে যান চাঁচড়া মোড় থেকে। 

তখনকার ইউপি চেয়ারম্যান তোজাম্মেল মল্লিকের সাথে ঐ বাস যাত্রায় ছিলেন খোকন মেম্বার, সোহাগ লালু, বাবলা, রবি, ফন্টে গোলদার, বজলু ছিলেন সেই যাত্রায়। শতাধিক মানুষ তার সাথে উলশী খাল খননে অংশ নেয়।

স্মৃতি হাতড়ে সান্টু মল্লিক আরো জানালেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বঙ্গভবন থেকে গাড়িতে করে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যান সান্টু মল্লিক কে। এসবই আজ শুধুই স্মৃতি। জিয়া মারা যাওয়ার পর আর কেউ তাদের খোঁজ করেনি। এটাই কষ্টের যা দারুণ ব্যাথিত করে।

গণতন্ত্রের রাজকন্যা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পিতা এসকেন্দার মজুমদার ছিলেন চাঁচড়া ইউপি চেয়ারম্যান তোজাম্মেল মল্লিকের বন্ধু। রাষ্ট্রপতি জিয়া কে তিনি জামাই বাবাজ্বী সম্বোধন করতেন। 

দিন বদলেছে। তোজাম্মেল মল্লিক ১৯৮২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি এরশাদ তোজাম্মেল মল্লিক কে ডেকে পাঠান। সাথে শিশু সান্টু মল্লিকও ছিল। রওশন এরশাদ সান্টু মল্লিককে কোলে লুচি ও কফি খাওয়াচ্ছিল। অন্যদিকে ডাকিয়ে রাষ্ট্রপতি এরশাদ ঢাকা কান্টনমেন্টে আমতলার পাশে একটি হলরুমে কিসব কথা বার্তা বলেন। বাড়ি ফিরে তিনি দুশ্চিন্তায় রোগগ্রস্থ হয়ে পড়েন। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার কে তখন সবে স্যাক করা হয়েছে। তার বন্ধু ছিলেন তোজাম্মেল মল্লিক। তাই ডেকে থ্রেট দিয়ে পক্ষে আনতে চেষ্টা করেছিলেন এরশাদ।তোজাম্মেল মল্লিক মারা যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে কয়েকটি চিঠি পাঠান সান্টু মল্লিক কে। সান্টু তিন মাস বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের বাড়ি ছিলেন। তিনিও নি:সন্তান ছিলেন। তাই সান্টুকে নিজের ছেলে হিসাবে দেখতেন। 

স্মৃতি চারণে সান্টু মল্লিক বলেন তার পিতা তোজাম্মেল মল্লিক নাজিম উদ্দীন আল আজাদ কে রাষ্ট্রপতি জিয়ার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। দ্রুত নাজিমুদ্দিন আল আজাদ কে হুইপ করেন জিয়া।

২০১১-১২ সালে ইউপি চেয়ারম্যান মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেন সান্টু মল্লিক। বোর্ড এ ছিলেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামছুল হুদা, এডভোকেট জাফর সাদিক, গোলাম রেজা দুলু, এডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, কতোয়ালি থানা বিএনপির সভাপতি নুরুন্নবি, মিজানুর রহমান খান, জেলা যুবদল সভাপতি এহসানুল হক মুন্না প্রমুখ। 

কেন চেয়ারম্যান হওয়ার খায়েস হয়েছে প্রশ্ন করেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল হুদা। তখন সান্টু মল্লিক জবাব দেন। বলেন জাতীয়তাবাদী চেতনায় মনের তাগিদ থেকে তিনি পিতার মতই ১০নং চাঁচড়া ইউপির চেয়ারম্যান হতে চান। সেবার মোজাহার হোসেন নল্লা কে চেয়ারম্যান দলীয় মনোনয়ন দেয় বিএনপি। তিনি ফেল করেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আওয়ামীলীগের আব্দুল আজিজ বিস্বাস। জনপ্রিয় নয় এমন একজন কে মনোনয়ন দেওয়ায় দল হার মানে। 

সান্টু মল্লিক বলেন বিএনপির আজকের দিনে যারা নানা পর্যায়ে রয়েছেন এর বেশির ভাগ শহীদ জিয়ার ১৯ দফা সম্পর্কে জানেনা। দলে দালাল লুটপাটকারীর সংখ্যা বেড়েছে। এতে বিএনপির ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। সব চেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে তৃণমূলে। পাড়া মহল্লা গ্রামে মানুষ আঞ্চলিক নেতাদের ঠেলায় বেজায় অতিষ্ট। এরা মুখ খুলতে পারছে না। সাধারণ মানুষের কষ্ট আরো বেশি। সান্টু মল্লিক চাইছেন ১৯দফার আলোকে যশোরের উলশী খালের মতই অন্যান্য খাল ও ভৈরব কপোতাক্ষ বেতনা মুক্তেস্বরী নদী খনন করা হোক। পাশাপাশি সারা দেশে কৃষি সবুজ বিপ্লব দেখতে তিনি আগ্রহী। এটাই তার চাওয়া।