শিক্ষকের মুখোশ উন্মোচন: ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে দীর্ঘদিন ধর্ষণের অভিযোগ
মো: মিজানুর রহমান (সুমন), বেগমগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক ছাত্রীকে (১৯) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল এবং দীর্ঘ সময় ধরে ধর্ষণের অভিযোগে কুতুবপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন (৪৯) গ্রেপ্তার হয়েছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে তাকে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে শুক্রবার রাতে উপজেলার পশ্চিম মির্জানগর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ২০ এপ্রিল ভুক্তভোগী ছাত্রী দুই শিক্ষকসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তার দেলোয়ার হোসেন পূর্ব মির্জানগর গ্রামের আবদুস সোবহানের ছেলে। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শংকর চন্দ্র মজুমদার (৪৮), যিনি তিন তক্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এছাড়া আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় প্রাইভেট পড়ার সুবাদে ওই ছাত্রীর সঙ্গে দেলোয়ার হোসেনের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ তাকে একটি কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক আপত্তিকর স্বীকারোক্তি লিখিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়। এরপর ওই ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ের প্রলোভনে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ করা হয়।
এ ঘটনায় শংকর চন্দ্র মজুমদার সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে ভুক্তভোগী ছাত্রীর অন্যত্র বিয়ে হলেও অভিযুক্ত দেলোয়ার থেমে থাকেননি। তিনি ছাত্রীর স্বামীর নম্বর সংগ্রহ করে ভুয়া ফেসবুক আইডির মাধ্যমে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পাঠান। এতে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।
পরবর্তীতে আসামিরা পুনরায় শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ ও টাকা দাবিতে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। সর্বশেষ ১৩ এপ্রিল নোয়াখালী মহিলা কলেজে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে ছাত্রীর পথরোধ করে কুপ্রস্তাব দেয় এবং ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দেয়।
পরে ভুক্তভোগী ছাত্রী বেগমগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ করতে গেলে তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে তা নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান জানান, ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








