আদালতের নির্দেশ অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা
নাছির নোমান, ঈদগাঁও প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণ ও জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) এ ঘটনায় ঈদগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ইসলামাবাদ ইউনিয়নের খোদাইবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী রশিদ আহমদ (প্রকাশ বাবুল কোম্পানি)।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামাবাদ শাহ ফকির বাজার সংলগ্ন তার দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় প্রায় ১ একর জমির উপর একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নজর পড়ে। উক্ত জমি ঈদগাঁও মৌজার আরএস ৪০৪ নম্বর খতিয়ানের ১৫১৬ ও ১৫১৭ দাগাদির তুলনামূলক নামজারি খতিয়ান নং-১১৩৭৭ ও নামজারি দাগ নং ২১৬২ ও ২১৬৫ দাগাদির অন্দরে মোট এক একর জমি। উক্ত জায়গা দীর্ঘদিন ধরে এ চক্র জবর দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
এ প্রেক্ষিতে বাবুল কোম্পানী আদালতে মামলা (নং-১৭০/২৪) দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে আদালত উভয় পক্ষকে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উক্ত জমিতে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ বা কার্যক্রম না চালানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের ওই নির্দেশ অমান্য করে ৫ মে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে এরা দলবল ও মিস্ত্রি নিয়ে এসে জোরপূর্বক টিন ও গাছ দিয়ে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে। এ সময় তারা বাদীপক্ষের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয় এবং জমি দখলের হুমকি প্রদান করে। এতে করে যে কোনো সময় সংঘর্ষ, এমনকি খুন-জখমের ঘটনাও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় আরিফুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন, ওবায়দুল এবং মোস্তাক আহমদ (প্রকাশ ফিরোজ)-কে বিবাদী করা হয়েছে।
রশিদ আহমদ বলেন, “আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আমার জায়গা জবরদখলের চেষ্টা চলছে। আমি থানায় অভিযোগ করেছি। প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের ফিরোজ আহমেদ দাবি করেন, “বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন এবং নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে ৬২ নম্বর দাগে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আমরা ৬৩ নম্বর দাগে কাজ করছি। এছাড়া পুরনো দোকানঘরের টিন পরিবর্তন করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম সিফাতুল মাজদার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে এলাকাবাসী প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।








