ঈদের আগে শুরু, মাঝপথে বন্ধ: বানেশ্বর মহাসড়কে সমন্বয়হীনতায় দুর্ভোগ চরমে

প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
ঈদের আগে শুরু, মাঝপথে বন্ধ: বানেশ্বর মহাসড়কে সমন্বয়হীনতায় দুর্ভোগ চরমে

ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী প্রতিনিধি:

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে শুরু হওয়া সড়ক সংস্কার কাজই এখন রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়কের বানেশ্বর এলাকায় চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজ অসমাপ্ত রেখে সড়কের অর্ধাংশ বন্ধ করে দেওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট, যা লাখো যাত্রীর ঈদযাত্রাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।

বানেশ্বর ট্রাফিক মোড় থেকে প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর সড়কটি সংস্কারহীন থাকলেও ঠিক ঈদের আগমুহূর্তে হঠাৎ করে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু কাজ শুরুর পর তা মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়ায় সড়কের একপাশ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে সরু অংশ দিয়ে দুইমুখী যান চলাচল করায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগেই থাকছে।

বৃহস্পতিবার সকালে (১৯ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একাংশ ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত সার্ভিস রোডে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। এতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়ে কখনও কখনও কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল হোসেন ও রুবেল আলম বলেন, “সারা বছর রাস্তা ভাঙা থাকলেও কোনো কাজ হয়নি। এখন ঈদের সময় কাজ শুরু করে আবার বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।”

স্থানীয় চিকিৎসক আব্দুর রাকিব বলেন, হাটবারে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। “মাত্র এক কিলোমিটার রাস্তা পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। জরুরি রোগী পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে,” বলেন তিনি।

পুঠিয়া ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান জানান, সড়কের অর্ধেক অংশ বন্ধ থাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। “তবুও আমরা যান চলাচল সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছি,” বলেন তিনি।

অন্যদিকে, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “টেন্ডার প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে কাজ শুরুতে বিলম্ব হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে সার্ভিস রোড ব্যবহার করে যাতায়াত সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমিত পরিসরের সার্ভিস রোড দিয়ে এই বিপুল যানবাহনের চাপ সামলানো বাস্তবসম্মত নয়। তাদের মতে, পরিকল্পনার অভাব ও সময় নির্বাচন নিয়ে অব্যবস্থাপনার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ঈদের মতো ব্যস্ত মৌসুমে কাজ শুরু ও হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতারই ইঙ্গিত দেয়। এর ফলে শুধু যাত্রী ভোগান্তিই নয়, সড়ক নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে।

এদিকে ঘরমুখী যাত্রীরা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ ও কাজ সম্পন্নের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তাদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা সম্ভব হয়।