২১৪ প্রতিষ্ঠানে জেলা পরিষদের ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ, উন্নয়নের অঙ্গীকার বাপ্পীর
সাইফুল ইসলাম, কয়রা( খুলনা) প্রতিনিধি :
খুলনা জেলা পরিষদের উদ্যোগে সামাজিক, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের প্রথম ধাপের আওতায় পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা মিলনায়তনে পৃথক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বরাদ্দের চিঠি তুলে দেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এবং জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।
তিনি বলেন, “কয়রা ও পাইকগাছার উন্নয়নে ৩ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েই আমাদের দায়িত্ব শেষ নয়। এ অঞ্চলের প্রতিটি শিক্ষা, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ উন্নয়ন বরাদ্দ নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সরকার পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে গুরুত্ব দিচ্ছে। ভবিষ্যতে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশ পুনর্গঠনে তরুণ সমাজসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, গত ১৭ বছরে কয়রা-পাইকগাছায় যে উন্নয়ন হয়েছে, তার চেয়েও ব্যাপক ও দৃশ্যমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই উন্নয়ন দর্শনের ধারাবাহিকতায় খাল পুনঃখননসহ জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ যদি ব্যক্তিগত বা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা পরিষদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতে জেলা পরিষদকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সেই সংস্কৃতি পরিবর্তনে কাজ করছেন। তিনি উপস্থিত উপকারভোগীদের উদ্দেশে বলেন, “কোনো প্রকল্পের জন্য জেলা পরিষদের কোনো সদস্য বা অন্য কেউ অর্থ দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে আমাকে জানাবেন। কারও কাছে একটি টাকাও দেবেন না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই সঙ্গে তিনি প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ও তদারকিতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
সকাল ১১টায় পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসিউজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং বিকেল ৪টায় কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ বাকীর সভাপতিত্বে পৃথক দুটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম শামীম কবির, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম নান্নু ও জিএম রফিকুল হাসান, জেলা বিএনপির সদস্য বদরুদ্দোজা বাবলু, ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মালেক এবং জেলা যুবদলের সদস্য সচিব নাদিমুজ্জামান জনি।
এছাড়া পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা বিএনপি, যুবদল, কৃষক দল, জাসাস এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩,৫০০টি বনজ ও ফলজ গাছের চারা বিতরণ এবং উপজেলা চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। বিকেলে কয়রা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝেও ২,০০০টি বনজ ও ফলজ গাছের চারা বিতরণ এবং উপজেলা চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।









