‎দুর্যোগে শুধু নিরাপত্তা নয়, মানবতার হাত বাড়াল সিএমপি

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম
‎দুর্যোগে শুধু নিরাপত্তা নয়, মানবতার হাত বাড়াল সিএমপি

‎মোহাম্মদ ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

‎টানা বর্ষণ আর জলাবদ্ধতায় যখন চট্টগ্রামের অনেক পরিবার ঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিতে বাধ্য হয়েছে, তখন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বের পাশাপাশি দুর্যোগে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে সিএমপি নগরজুড়ে আশ্রয় নেওয়া শত শত পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছে ত্রাণ সামগ্রী।

‎সিএমপির পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী-এর উদ্যোগে মহানগরের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও দুর্যোগকবলিত এলাকায় মোট ৭০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। চাল, ডাল, শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষজন।

‎গত ১২ জুলাই রাতে আকবরশাহ থানার ফিরোজশাহ কলোনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া ৯৫টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেন এবং আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান।

‎একই রাতে খুলশী থানার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন ডা. শহীদ মকবুল আহমদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া ১৮৪টি পরিবারের হাতে ত্রাণ তুলে দেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) সোহেল পারভেজ ও খুলশী থানার ওসি মোজাম্মেল হক।

‎পাঁচলাইশ থানার হোসেন আহম্মদ চৌধুরী সিটি কর্পোরেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রেও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। পরদিন বায়েজিদ বোস্তামি থানার হাজিপাড়া আব্দুল মোনায়েম হাইস্কুলে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যেও ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

‎সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একটি চান্দগাঁও। সেখানে শমসেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর মোহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালামিয়া পুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ২০০ পরিবারের হাতে ত্রাণ তুলে দেন উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. হাসান মোস্তফা স্বপন, পাঁচলাইশ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার বিধান আবিদ এবং চান্দগাঁও থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন। একই সময়ে ইপিজেড থানার বিভিন্ন দুর্যোগকবলিত এলাকায় আরও ২০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

‎আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কয়েকজন জানান, হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করার সুযোগ পাননি। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছিল। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের এই সহায়তা তাদের কিছুটা হলেও সাহস জুগিয়েছে।

‎খুলশীর একটি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা এক নারী বলেন, বৃষ্টির মধ্যে কীভাবে চলব বুঝতে পারছিলাম না। পুলিশ এসে খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়েছে। অন্তত সন্তানদের নিয়ে এখন একটু স্বস্তিতে আছি।

‎চান্দগাঁওয়ের এক বাসিন্দা বলেন, আমরা সাধারণত পুলিশকে আইনশৃঙ্খলার কাজে দেখি। কিন্তু আজ তারা আমাদের খোঁজ নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে, এটা সত্যিই মানবিক উদ্যোগ।

‎সিএমপির কর্মকর্তারা জানান, দুর্যোগের সময় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতেও তারা কাজ করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

‎নগরজুড়ে জলাবদ্ধতায় যখন অনেক পরিবার দিশেহারা, তখন পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগ যেন একটুখানি আশার আলো হয়ে উঠেছে। আশ্রয়কেন্দ্রের ভেজা মেঝেতে বসে থাকা মানুষগুলোর মুখে ত্রাণের ব্যাগ হাতে যে স্বস্তির হাসি ফুটেছে, সেটিই হয়তো প্রমাণ করে দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।