সুন্দরবনে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ বনদস্যুর

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
সুন্দরবনে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ বনদস্যুর

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি:

সুন্দরবনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় কুখ্যাত ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন বনদস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণের সময় তারা বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ হস্তান্তর করেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবনের চরপুটিয়া খালসংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১১টায় মোংলায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে সরকারের নির্দেশনায় কোস্ট গার্ড 'অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন' এবং 'অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড' নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এসব অভিযানে ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি ৪৫ জন বনদস্যুকে গ্রেপ্তার এবং অপহৃত ৪২ জন জেলে ও বনজীবীকে জীবিত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন বনদস্যু বাহিনীর কার্যক্রম অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে। এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্য ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ আরও ২৭ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণের সময় তারা তিনটি বিদেশি বন্দুক, একটি এইট শুটার, একটি ফোর শুটার, পাঁচটি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশীয় পাইপগান, দুটি চায়না পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেন।

আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা খুলনা, বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম শেষে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে সুন্দরবনে সক্রিয় অন্য বনদস্যুদেরও আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতির আওতায় কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।