হান্নান মাসউদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারালেন বাবা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এক ব্যতিক্রমী ও আলোচিত লড়াইয়ের পর বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ। একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছেন তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, শাপলা প্রতীকে নির্বাচন করা হান্নান মাসউদ পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২১ ভোট। বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি হাতিয়া আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক পেয়েছেন মাত্র ৫০৫ ভোট। ফলে তিনি নির্ধারিত ভোটের হার পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের কমপক্ষে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়। এই নিয়ম অনুযায়ী আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক ছাড়াও আরও আট প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও মো. আলাউদ্দিন।
তিনি জানান, “আরও আটজন প্রার্থী আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। হাতিয়ায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী কয়েকটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।”
হাতিয়া একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত দিক থেকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। স্থানীয়রা আশা করছেন, নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্য উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা ও নাগরিক সেবায় নতুন গতি আনবেন।
পিতা-পুত্রের সরাসরি নির্বাচনী লড়াই এবং বাবার জামানত হারানো—এই ঘটনাকে ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের রায়ই শেষ কথা—এবং হাতিয়ার জনগণ এবার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তাদের প্রত্যাশা ও পছন্দ সম্পর্কে।
বা/মে২৪/ম









