সুন্দরবনে আবারও আত্মসমর্পণ ছোট সুমন বাহিনীর, অস্ত্র-গুলিসহ কোস্ট গার্ডের কাছে হাজির ৭ দস্যু

প্রকাশিত: ২১ মে ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
সুন্দরবনে আবারও আত্মসমর্পণ ছোট সুমন বাহিনীর, অস্ত্র-গুলিসহ কোস্ট গার্ডের কাছে হাজির ৭ দস্যু

ম.ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধি:

সুন্দরবনের আলোচিত বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদারসহ সাতজন দস্যু আবারও অস্ত্র ও গুলিসহ আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন।

এ সময় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলামের কাছে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি জমা দেন তারা। অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ড, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব, বনবিভাগ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, গত ১৭ মে গভীর রাতে মোংলার সুন্দরবনের নন্দবালা খাল এলাকায় ছোট সুমন বাহিনীর সদস্যরা প্রথমে অনানুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। পরে বৃহস্পতিবার পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে তাদের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ সম্পন্ন হয়।

আত্মসমর্পণের সময় দস্যুদের কাছ থেকে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি ও ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি জব্দ করা হয়।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে দস্যুতা নির্মূলে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানের কারণে বনদস্যু বাহিনীগুলো ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ছোট সুমন বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।

তিনি আরও বলেন, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় সুন্দরবনের সব দস্যু বাহিনীকে দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হচ্ছে। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে, অন্যথায় আরও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।

আত্মসমর্পণকারী বাহিনী প্রধান সুমন হাওলাদার বলেন, “২০১৮ সালে র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণের পর ব্যবসা-বাণিজ্য করে চলছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন হামলা-মামলা ও হয়রানির কারণে আবারও ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়ি। এবারও সুযোগ পেয়ে আত্মসমর্পণ করেছি। আমরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই।”

অন্য সদস্যরাও জানান, দীর্ঘদিন প্রশাসনের ভয়ে পালিয়ে থাকতে হয়েছে। ঠিকমতো খাওয়া-ঘুমও হতো না। সবসময় মৃত্যুভয় নিয়ে চলাফেরা করতে হয়েছে।

আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা হলেন— সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) ও মাহফুজ মল্লিক (৩৪)। তাদের মধ্যে প্রথম ছয়জন মোংলা এবং মাহফুজ রামপাল উপজেলার বাসিন্দা।

কোস্ট গার্ডের তথ্যমতে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এ পর্যন্ত ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৭৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগান গুলি ও ২টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ২১ জন বনদস্যুকে আটক এবং দস্যুদের কবল থেকে ২০ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।