সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মঠবাড়িয়ায় শিখন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা
মো. মেহেদী হাসান, , মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর):
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং ক্রমবর্ধমান দূষণ রোধে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সুন্দরবনের দূষণ হ্রাস এবং বাস্তুসংস্থান (Ecology) উন্নয়ন’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ শিখন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা। পরিবেশ সুরক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সচেতনতা বৃদ্ধি ও সম্মিলিত উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করতেই এই সভার আয়োজন করা হয়।
জার্মান কো-অপারেশন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'রুপান্তর' এবং 'হেলভেটাস জার্মানি'-এর যৌথ সহযোগিতায় মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই বর্ণাঢ্য সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ, কৃষি বিভাগ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন সরকারি ও পেশাজীবী দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ। সভায় বক্তব্য রাখেন, মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা,ষ কামরুন্নেশা সুমি, ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা, মঠবাড়িয়া ও মাঝেরচর ক্যাশ ইনচার্জ মোঃ মোতালেব মিয়া, মঠবাড়িয়া পৌরসভা কন্জারভেন্সী ইন্সপেক্টর মোঃ ফজলুল হক, অ্যাডভোকেট প্রদীপ মিত্র, অ্যাডভোকেট মোঃ শাহাদাৎ ফরাজী প্রমুখ।
এছাড়া আয়োজক সংস্থা ‘রুপান্তর’-এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রেজেন্ট অফিসার সাহিদা বানু সোনিয়া। তিনি এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য এবং সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় তাদের বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত বক্তারা সুন্দরবনের বর্তমান পরিবেশগত ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং মানুষের সৃষ্ট দূষণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো বিশ্বের এক অমূল্য সম্পদ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এই বন মায়ের মতো উপকূলীয় মানুষকে রক্ষা করে। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত প্লাস্টিক দূষণ, অবৈধভাবে সম্পদ আহরণ এবং অসচেতনতার কারণে সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান (Ecology) আজ হুমকির মুখে।
সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং দূষণ রোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি জরুরি। স্থানীয়রা সচেতন না হলে কোনো পদক্ষেপই দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে না।
উন্মুক্ত আলোচনায় স্থানীয় কৃষক ও অংশগ্রহণকারীরা সুন্দরবন সুরক্ষায় তাদের নিজ নিজ অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং আগামী দিনে পরিবেশ রক্ষায় একসাথে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সভার শেষাংশে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একটি সমন্বিত রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করা হয়।








