বাঘায় ট্রাকভর্তি জিরা লুটের অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা
রানা শেখ, বাঘা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার ট্রাকভর্তি জিরা লুটের অভিযোগে বিএনপির এক নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. ফেরদৌস সরদার বাদী হয়ে বাঘা থানায় মামলাটি করেন।
মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে আড়ানী পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. সুজাত আহম্মেদকে (৫৫)। অপর আসামিরা হলেন- তার ভাই মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫), ভাগনে মো. সুইট (২৫) ও মো. শান্ত (২৮)।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল হক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং জড়িতদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পাবনার সুজানগর উপজেলার চর চিনাখড়া গ্রামের ব্যবসায়ী ফেরদৌস সরদার আমদানিকৃত পণ্য পাইকারি বিক্রির ব্যবসা করেন। রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ব্যবসায়ী সিনারুল ইসলামের মাধ্যমে আসামিপক্ষ তার সঙ্গে ৩০০ বস্তা জিরা কেনাবেচার যোগাযোগ করে।
চুক্তি অনুযায়ী গত ৬ মে ভোরে পাবনা থেকে একটি ট্রাকে করে ৯ হাজার কেজি জিরা আড়ানী পৌরসভা এলাকায় পাঠানো হয়। প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে এসব জিরার মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অভিযোগে বলা হয়, সকাল আটটার দিকে ট্রাকটি আড়ানীতে পৌঁছালে ১৫০ বস্তা জিরা একটি ভটভটিতে এবং বাকি ১৫০ বস্তা সুজাত আহম্মেদের গুদামে নামানো হয়। পরে টাকা চাইলে ক্রেতাপক্ষ পূবালী ব্যাংকের সই করা একটি ফাঁকা চেক দেয়। নগদ ২৫ লাখ টাকা দেখানো হলেও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বাকি টাকা ব্যাংক খোলার পর চেক জমা দিয়ে পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।
মধ্যস্থতাকারী ব্যবসায়ী সিনারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পরে গুদামে গিয়ে দেখা যায় সেখানে রাখা জিরার বস্তাগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ব্যাংকে গিয়ে চেকের বিপরীতে কোনো অর্থ না থাকায় প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এসময় টাকা চাইলে তাকে একটি চায়ের দোকানের পেছনে নিয়ে চাকুর ভয় দেখিয়ে চেকটি ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পরদিন ভোরে বাঘা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ কয়েক দফা অভিযান চালায়। পরে আড়ানী পৌর বিএনপির সভাপতি তোজাম্মেল হকের মধ্যস্থতায় প্রথমে ১১০ বস্তা এবং পরে আরও ৬৫ বস্তা জিরা উদ্ধার করা হয়। তবে এখনও বিপুল পরিমাণ জিরা ও টাকার কোনো হদিস মেলেনি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে আড়ানী পৌর বিএনপির সভাপতি তোজাম্মেল হক বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে ১৭৫ বস্তা জিরা উদ্ধার করে দিয়েছি। এরপর ভুক্তভোগীদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
তবে অভিযুক্ত সুজাত আহম্মেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, তার ভাগনেরা জিরা কিনেছিল এবং বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে।
বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হীরেন্দ্রনাথ বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে। কিছু জিরা উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”








