মক্কা-মদিনার মর্যাদায় আপস নয়, ‘মক্কা প্যাক্টে’ যোগ দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
মক্কা-মদিনার মর্যাদায় আপস নয়, ‘মক্কা প্যাক্টে’ যোগ দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ

সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


পবিত্র মক্কা ও মদিনার মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে ‘মক্কা প্যাক্টে’ যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন তিনি।


শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘কর্মশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের পুনর্কল্পনা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।


হুমায়ুন কবির বলেন, পবিত্র মক্কা ও মদিনার মর্যাদার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট। এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। প্রয়োজন হলে এ দুই পবিত্র স্থানের মর্যাদা রক্ষায় বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।


মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো আমন্ত্রণ বা জবাব এসেছে কি না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।


তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা মুসলিম দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের কার্যক্রমে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। মক্কা প্যাক্টের উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।


সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বে জোর


সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এতদিন দুই দেশের সম্পর্ক মূলত শ্রমিক পাঠানো ও রেমিট্যান্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ।


প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরব বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। স্টার রিফাইনারি-২ প্রকল্পে সৌদি বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে রূপ দিতে উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে।


তিনি বলেন, শুধু সৌদি আরব নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বিনিয়োগভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। প্রচলিত শ্রমবাজারকেন্দ্রিক সহযোগিতার বাইরে গিয়ে প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক খাতে অংশীদারত্ব বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নীতির ভিত্তিতে বিনিয়োগ সহযোগিতা এগিয়ে নিতে হবে।


জাপান সফরে বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতা গুরুত্ব পাবে


প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, সফরে বিনিয়োগ অংশীদারত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আওতায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।


তিনি জানান, সরকার গঠনের পর জ্বালানি সংকট দেখা দিলে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানিবিষয়ক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে জাপানের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।


জাপান সরকারের আগ্রহ এবং বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও আলোচনা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।


বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।


এমকে/বিএম২৪