বেনজীরের মুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই, গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার দুদকের

প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৮ এএম
বেনজীরের মুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই, গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার দুদকের

সূত্রঃ ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় দুদকের কোনো গাফিলতি ছিল না।


রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বেনজীরের মুক্তির বিষয়টি দুদক গণমাধ্যমের খবরে জেনেছে। আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


দুদকের মহাপরিচালক বলেন, আন্তঃদেশীয় আইনি সহায়তা বা প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে। দুদক প্রয়োজনীয় সব নথি ও প্রস্তাব যথাসময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশে তা পাঠানো হয়। ফলে এ প্রক্রিয়ায় দুদকের কোনো অবহেলা ছিল না।


বেনজীরকে কোন ভিত্তিতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না জেনে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।


এদিকে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীর আহমেদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৩০ জুলাই তিনি কারামুক্ত হন।


এর আগে গত ১৬ জুন বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইংরেজি ও আরবি ভাষায় প্রস্তুত করা প্রত্যর্পণ প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় দুদক। তারও আগে ১২ জুন আবুধাবির ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশকে জানায়, ইউএই আইনের বিধান অনুযায়ী গ্রেপ্তার ব্যক্তির প্রত্যর্পণের জন্য ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠাতে হবে।


উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, পাসপোর্ট জালিয়াতি ও অর্থপাচারসহ তার বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ছয়টি মামলার তদন্ত চলছে।


দুদকের তদন্তে বেনজীর ও তার পরিবারের নামে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৩৪৫ বিঘা জমিসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। সংস্থাটির দাবি, ঘোষিত সম্পদের বাইরে তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল সম্পদের প্রমাণ মিলেছে, যা বিভিন্ন মামলার তদন্তে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।