ঝিনাইদহে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের কর্মীদের উপর লাগাতার হামলা: কার্যালয় ভাঙচুর
মোঃ আসাদুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী বহুমুখী সহিংসতায় ঝিনাইদহ-৪ (কালিগঞ্জ-সদর আংশিক) আসনের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক হামলা, পাল্টা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, পৃথক তিনটি সহিংসতার ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, ঝিনাইদহ-৪ আসনের কাপ-পিরিচ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজের কার্যালয় ভাঙচুরেরও ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের নীমতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাজার রোডে অবস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। সেসময় খোকন, ইভন ও জাবেদ আলী নামে তিন বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে আহত করা হয়। আহত জাবেদ আলী কালীগঞ্জ পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে।
একই সময়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডঙ্গা ইউনিয়নের ভিটেশ্বর গ্রামে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের সঙ্গে কাপ-পিরিচ প্রতীকের সমর্থকদের তুমুল সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আকরাম হোসেন, ফজলুর রহমান, ফারুক হোসেন, নজরুল ইসলাম ও জাফর উদ্দীন সহ অনেকেই আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।
অপরদিকে, একই ইউনিয়নের খাড়াশুনি গ্রামে কাপ-পিরিচ প্রতীকের সমর্থক কওসার বিশ্বাসের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। সেসময় কালীগঞ্জের পারখিদ্দা গ্রামে সেচ্ছাসেবক দলের কর্মী রাসেলকে মারধর করেছে স্থানীয় মাজেদের লোকজন। অনেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এসকল ঘটনার আগে সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা বাজারের খালকুলা গ্রামে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যেও ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ধানের শীষের সমর্থক রবিউল শেখ এবং কাপ-পিরিচ প্রতীকের সমর্থক মোশারেফ শেখ ও ইব্রাহিম শেখ আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করেন।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ অভিযোগ করে বলেন,
"স্থানীয় প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে না। বিভিন্ন উপজেলায় তার সমর্থকদের ব্যাপক মারধর করা হলেও, পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।"
ঘটনার সার্বিক বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন,
"খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
নির্বাচন-পরবর্তী এই সহিংসতায় কালীগঞ্জ উপজেলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হলেও, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে কঠোর বার্তা। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় প্রশাসন সদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বা/মে২৪/ম









