জ্বালানি খাত অস্থিতিশীল করতে চক্র সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
জ্বালানি খাত অস্থিতিশীল করতে চক্র সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী

সূত্রঃ ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক



জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র সুকৌশলে তৎপর রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে ইতিবাচক ও বাস্তবমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানিসহ দেশের প্রতিটি খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বনির্ভর করতে সরকার বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র, দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং দুর্বল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা পেয়েছে। সেখান থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র, রাজনীতি, শাসন ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা এখনো সক্রিয়। এর মধ্যেই একটি চক্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে সরকার ইতিবাচক উদ্যোগের মাধ্যমে এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে বর্তমান সরকার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে।

এ ছাড়া দ্রুত ই-হেলথ কার্ড চালুর কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

চিকিৎসাসেবায় সরকারের নীতিকে ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার পাশাপাশি রোগের কারণ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে মানুষকে আগে থেকেই সচেতন করা জরুরি। এ লক্ষ্যে নতুন করে আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তাদের প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রমে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চিকিৎসকদের সাত প্রস্তাব

স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে সাতটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো—

১. বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে দ্রুত ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ।
২. সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ থেকে ৩৪ বছর করা।
৩. চিকিৎসকদের অবসরের বয়সসীমা ৬১ থেকে ৬৫ বছর করা।
৪. চিকিৎসক ও রোগীর নিরাপত্তায় স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন।
৫. উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত চিকিৎসকদের বিশেষ ভাতা ও প্রণোদনা দেওয়া।
৬. বেসরকারি খাতে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য ন্যায্য ও সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো করা।
৭. বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের এসব প্রস্তাব অযৌক্তিক নয়। ইতোমধ্যে ঢাকার বাইরে শিশু হাসপাতালসহ কয়েকটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। অন্য প্রস্তাবগুলোও ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে।

রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের আহ্বান

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলে। তাই নিজ নিজ মতাদর্শ অনুযায়ী রাজনৈতিকভাবে সচেতন বা সংগঠিত থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে অতিরিক্ত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, প্রচলিত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবে না; চিকিৎসকদেরও সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হবে না।


এমকে/বিএম২৪