খুব শিগগিরই কমবে লোডশেডিং: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৩ পিএম
খুব শিগগিরই কমবে লোডশেডিং: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


দেশে চলমান লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে অনেকটাই কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।


মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।


জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি নিয়ে সরকারের নানা উদ্যোগ চলছে। আশা করা হচ্ছে, বর্তমানে যে পরিমাণ লোডশেডিং হচ্ছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।


তিনি বলেন, অতীতে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ তুলনামূলকভাবে বেশি নিশ্চিত করা হলেও গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার সেই নীতি থেকে সরে এসে বিদ্যুৎ সংকটের চাপ শহর ও গ্রামের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


উপদেষ্টা বলেন, বড় শহরগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি থাকায় সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি নীতিগত প্রবণতা রয়েছে। তবে বর্তমান সংকটে সবাইকে এর চাপ ভাগ করে নিতে হচ্ছে। এ কারণেই ঢাকাতেও এখন লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে।


আগের সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ’ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, বাস্তবে তখন কতটা লোডশেডিং হয়েছে তার তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে এবং আগামী সপ্তাহে এ সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হতে পারে।


বিদ্যুৎ সংকটের কারণ হিসেবে জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং বিদ্যুতের দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদার কথা উল্লেখ করেন তিনি।


চলমান পরিস্থিতিতে ঢাকার ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী লোডশেডিং সমন্বয় করে সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পুনর্বণ্টন করা হচ্ছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। এর ফলে ঢাকার বাইরের শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং গ্রামাঞ্চলেও দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের চাপ কমছে বলে দাবি করেন তিনি।


তিনি বলেন, সরকার যে সংকটের মধ্যে রয়েছে, এর কিছুটা কষ্ট সবাইকে সহ্য করতে হবে। তবে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


লালদিয়া টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন


প্রেস ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।


তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা ও আধুনিকায়ন এবং বৈদেশিক বাণিজ্য আরও গতিশীল করতে ডেনমার্কের সহযোগিতায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ৩০ আগস্ট চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে প্রকল্পটির গ্রাউন্ডব্রেকিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।


দেশে সার সংকট নেই


দেশে সার সংকট নেই বলেও দাবি করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সরবরাহে কোনো বড় ধরনের সমস্যা নেই। তবে বিতরণ পর্যায়ে দু-একটি এলাকায় সাময়িক সমস্যা হয়েছিল, যা সরকার সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে।


বর্তমানে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে দেশে ১২ দশমিক ৮৬১ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে বলে জানান তিনি। গত বছরের একই সময়ে মজুত ছিল ১২ লাখ মেট্রিক টন।


ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় আসছে নীতিমালা


ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশা চলাচল ও ব্যবস্থাপনার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।


তিনি বলেন, ই-রিকশা নিয়ে ঢাকায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। এ যানবাহনের যান্ত্রিক ও কারিগরি বৈশিষ্ট্য, চালকদের লাইসেন্স, নিবন্ধন এবং কোন এলাকায় চলাচল করতে পারবে—এসব বিষয় নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।