কুড়িগ্রাম–৩ (উলিপুর) আসনে বিএনপির পরাজয় নিয়ে মুখ খুললেন ছাত্রদল নেতা বাপ্পি

প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
কুড়িগ্রাম–৩ (উলিপুর) আসনে বিএনপির পরাজয় নিয়ে মুখ খুললেন ছাত্রদল নেতা বাপ্পি

আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রাম–৩ (উলিপুর) সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী তাসভীর উল ইসলামের পরাজয় নিয়ে দলীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা চলছে।

অবশেষে পরাজয়ের কারণ নিয়ে মুখ খুললেন ছাত্রদল নেতা বাপ্পি। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক

 তৌহিদ মিয়া (বাপ্পি) বলেন“জনতার এমপি তাসভীর উল ইসলাম হারেননি; তাঁকে হারিয়েছেন তাঁর আশপাশের সুবিধাভোগী নেতারা।”

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাসভীর-উল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৭৮ হাজার ৯৮২ ভোট পেয়েছেন। 

 সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এই আসনে জয়লাভ করেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী। তিনি দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৯৩৩ ভোট।

স পরাজয়ের পেছনে কয়েকটি কারণ তুলে ধরেন ছাত্রদল নেতা তৌহিদ হাসান (বাপ্পি)।কারণগুলো হলো,

 ১. দলীয় কোন্দল

স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কোন্দল চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী প্রচারণা গড়ে ওঠেনি।

২. জামায়াতের পক্ষে অবস্থান ও ভোট কেনাবেচার অভিযোগ

একাধিক নামধারী বিএনপি নেতা জামায়াতের পক্ষে ভোট চেয়েছেন এবং অর্থের বিনিময়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন—এমন অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের কয়েকজন কর্মী। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

৩. ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন

দলীয় কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে ক্ষোভ রয়েছে। দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকা কর্মীদের পাশ কাটিয়ে কিছু সুবিধাভোগীকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

৪. অবৈধ বালু উত্তোলন ও জোরপূর্বক কর্মকাণ্ড

অবৈধ বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন জোরপূর্বক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল বলে স্থানীয়দের অনেকে দাবি করেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।

৫. কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ

দলীয় কমিটি গঠনে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এতে তৃণমূলের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ে এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা তৈরি হয়।

৬. দলবদলকারীদের পুনর্বাসন

ভোটের আগে আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত ব্যক্তিদের দলে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা–কর্মীরা নিজেদের উপেক্ষিত মনে করেছেন।৭. টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ

কিছু নেতা–কর্মীর বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে দ্রুত সম্পদশালী হয়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ড দল ও প্রার্থীর ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

 রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংগঠনিক ঐক্য, স্বচ্ছতা ও তৃণমূলের আস্থা অর্জন ছাড়া কোনো দলের পক্ষে নির্বাচনী সাফল্য ধরে রাখা কঠিন।


বা/মে২৪/ম