কালাইয়ে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
কালাইয়ে তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী

সউদ আব্দুল্লাহ, কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:

‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ,সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা-২০২৬ শুরু হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, এমপি।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাঠে বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন তিনি। পরে একটি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করেন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেন।

বগুড়া সামাজিক বন বিভাগের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে। আগামী ২৭ জুলাই পর্যন্ত চলবে এ মেলা। এতে বিভিন্ন নার্সারি অংশ নিয়ে বনজ, ফলজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছসহ নানা প্রজাতির চারা প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন,একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশও নিশ্চিত করে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। গাছ রোপণ করাই যথেষ্ট নয়, সেটিকে বড় করে তোলার দায়িত্বও আমাদের সবার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী এবং জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ আব্দুল বারী বলেন, কালাই একটি কৃষিপ্রধান উপজেলা। কৃষি ও পরিবেশ একে অপরের পরিপূরক। তাই পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি কৃষির টেকসই উন্নয়নের জন্যও ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মকে গাছ লাগানোর সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া বলেন,বৃক্ষমেলা শুধু চারা বিক্রির আয়োজন নয়, এটি পরিবেশ সচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রত্যেকে যদি বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করেন, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মতলুবুর রহমান বলেন,বনাঞ্চল বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মেলার মাধ্যমে মানুষকে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, কালাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মণ্ডল, যুগ্ম আহ্বায়ক মওদুদ আলম সরকার, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের সমশিরা গ্রামে তাঁর নানা-নানীর কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

মেলায় আগত দর্শনার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে চারা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।