এসআই রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’, পাল্টা অবস্থান আরএমপির
ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বোয়ালিয়া মডেল থানার এসআই রাজু মিয়ার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নির্যাতন ও ব্যক্তিগত গাড়ি আত্মসাতের অভিযোগ তোলার ঘটনায় তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। একই সঙ্গে এ ধরনের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ।
শনিবার রাতে আরএমপি পুলিশের পাঠানো এ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চত করা হয়।
পুলিশ জানায়, সংবাদ সম্মেলনে মো. শাহীন কবির অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকা সত্ত্বেও এসআই রাজু মিয়া তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে মারধর করেন এবং তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। এছাড়া জেলহাজতে থাকা অবস্থায় তার প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে আরএমপি দাবি করেছে, প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন। পুলিশ জানায়, শাহীন কবির তার স্ত্রী-সন্তানের বিষয়টি গোপন রেখে এক ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং গোপনে তাদের ব্যক্তিগত ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করেন। পরে ওই ছাত্রী সম্পর্ক থেকে সরে যেতে চাইলে তিনি ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে পুনরায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং ভিডিও মুছে ফেলার বিনিময়ে এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে তিনি ভুক্তভোগীর ভিডিও ও অশ্লীল ছবি নিজের টিকটক আইডিতে প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী বোয়ালিয়া মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাজু মিয়া আইনানুগ প্রক্রিয়ায় শাহীন কবিরকে গ্রেপ্তার করেন। পুলিশ জানায়, সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মামলার আলামত জব্দ করা হয় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট ভিডিও ও স্থিরচিত্র পাওয়ায় সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
আরও জানানো হয়, মামলার আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শাহীন কবিরের ব্যক্তিগত গাড়ি তার ছেলের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) লিপিবদ্ধ রয়েছে।
আরএমপির ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার তদন্ত, আলামত জব্দ ও আসামি গ্রেপ্তারসহ সব কার্যক্রম প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ পর্যালোচনায় এসআই রাজু মিয়ার বিরুদ্ধে টাকা দাবি বা গাড়ি আত্মসাতের কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ বলেছে, যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের বিভ্রান্তিকর অভিযোগ প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আরএমপি।









