ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজার পর নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল, দুই থানায় ২৫ জন গ্রেফতার
মোহাম্মদ ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম নগরীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিল ঘিরে অভিযান চালিয়ে কোতোয়ালী ও খুলশী থানা পুলিশ মোট ২৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে পৃথক মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মে সকালে সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন-এর জানাজা শেষে কোতোয়ালী থানাধীন জামিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করে। এসময় তারা নাশকতার উদ্দেশ্যে লাঠিসোটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে সড়কে অবস্থান নেয় বলে দাবি পুলিশের।
খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানার এসআই শরীফ উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালালে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা অলিগলি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১৫টি ইটের টুকরা ও ৮টি কাঠের লাঠি জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে কোতোয়ালী থানার ওসি মো. আফতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে যুবলীগ নেতাসহ ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানার মামলা নং-২৭, তারিখ ১৫ মে ২০২৬, সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩) এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি, হত্যা, ছিনতাই ও নাশকতাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছে বলেও দাবি পুলিশের।
অন্যদিকে একইদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে খুলশী থানাধীন ওয়াসা মোড় এলাকায় অগ্রণী ব্যাংকের সামনে সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল করে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে খুলশী থানার ওসি মো. আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
খুলশী থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত ছয়জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩) এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) জানিয়েছে, নগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নাশকতা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।








